বার্সেলোনাকে ৪-২ গোলে হারাল পিএসজি
বার্সেলোনাকে ৪-২ গোলে হারাল পিএসজি। সংগৃহীত

দু’বার পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ফিরেছিল বার্সেলোনা। একটা সময় মনে হচ্ছিল, প্যারিসের রাতটা হয়তো তাদের পক্ষেই লেখা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই গল্প বদলে দিল পিএসজি। শেষ ১১ মিনিটে জোড়া গোল আদায় করে নেয় স্বাগতিকেরা।

Advertisement

পার্ক দে প্রিন্সেসে মঙ্গলবার রাতে ৪-২ গোলে হেরে যায় হান্সি ফ্লিকের দল। এ হারে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১১ ম্যাচের জয়ের ধারা থামল বার্সেলোনার। চলতি মৌসুমে এটাই তাদের প্রথম হার। অন্যদিকে আরো একবার জানান দিল নিজেদের।

এদিন শুরু থেকেই ম্যাচে দাপট ছিল পিএসজির। কিন্তু বার্সেলোনার গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়ার একের পর এক দুর্দান্ত সেভের কারণে গোল পাচ্ছিল না স্বাগতিকেরা। ২৯ মিনিটে ফাবিয়ান রুইসের পরপর দু’টি শট ঠেকিয়ে দেন তিনি।

এর আগে দেজিরে দুয়ে ও উসমান দেম্বেলের প্রচেষ্টাও রুখে দিয়েছিলেন এই গোলরক্ষক। যদিও দেম্বেলেকে মাত্র ১৯ মিনিটেই মাঠ ছাড়তে হয়। পায়ের পেছনের পেশিতে টান লাগায় আর খেলতে পারেননি ফরাসি ফরোয়ার্ড। তার প্রভাব অবশ্য খুব একটা পড়েনি।

আক্রমণে আধিপত্য ধরে রেখে ৩৮ মিনিটে জালের দেখাও পেয়ে যায় পিএসজি। লামিন ইয়ামালের পাস মাঝপথে পেয়ে নিচু শটে গার্সিয়াকে পরাস্ত করেন দেজিরে দুয়ে। ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বার্সেলোনা।

দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চেহারা। ৫৫ মিনিটে ফেরমিন লোপেজের সাথে বল আদান-প্রদান করে বক্সে ঢুকে জোরাল শটে গোল করেন জাভি এসপার্ত। ১৯ বছর বয়সী এই ফুটবলারের চ্যাম্পিয়নস লিগে এটিই প্রথম গোল। ম্যাচে ফেরে বার্সেলোনা।

সমতা ফেরার পর দুই দলই একের পর এক আক্রমণে যায়। ৭১ মিনিটে কর্নার থেকে হেডে পিএসজিকে আবার এগিয়ে দেন লুকাস এরনান্দেস। এবারো বার্সেলোনার জবাব আসতে বেশি সময় লাগেনি।

৭৯ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে এগিয়ে বক্সে ঢুকে দুরূহ কোণ থেকে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন লামিন ইয়ামাল। স্কোর তখন ২-২। ম্যাচে তখন ভরপুর উত্তেজনা। বার্সা সমর্থকেরা তখন দারুণ কিছুর অপেক্ষায়।

কিন্তু পিএসজিও হাল ছাড়েনি। উল্টা দুই মিনিট পরই বক্সের বাইরে থেকে আসা বল বুকে নামিয়ে দুর্দান্ত হাফ ভলিতে গোল করেন ভিতিনিয়া। আবার এগিয়ে যায় স্বাগতিকেরা।

এরপর শেষের দিকে বার্সেলোনার রক্ষণে আর চাপ বাড়ায় পিএসজি। যার ফলও আসে, ৮৬ মিনিটে আশরাফ হাকিমির পাস থেকে ফাঁকা জালে বল পাঠান ফাবিয়ান রুইস। ৪-২। এরপর আর ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায়নি বার্সেলোনা।

পুরো ম্যাচে পিএসজি ২২টি শট নেয়, যার ১৫টি ছিল লক্ষ্যে। বার্সেলোনার ১৮ শটের মাত্র ৫টি লক্ষ্যে ছিল। পিএসজির আক্রমণের সামনে বার্সার রক্ষণ ছিল নড়বড়ে। গোলপোস্টের নিচে গার্সিয়াকে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে পুরো ম্যাচজুড়ে, ১০টি সেভ নেন তিনি।

অন্যদিকে এই জয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে তিন ম্যাচ শেষে ৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে পিএসজি। সমান ৯ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে দ্বিতীয় লিভারপুল। বার্সেলোনার পয়েন্ট ৬, অবস্থান ষষ্ঠ।

বার্সেলোনার সামনে এখন আরেকটি বড় পরীক্ষা। আগামী রোববার লা লিগার মৌসুমের প্রথম ক্লাসিকোয় রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে তারা। পিএসজির কাছে এই হার কাটিয়ে সেই ম্যাচে কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে ফ্লিকের দল, সেটিই এখন দেখার।