
জয়ের জন্য শেষ ৭ ওভারে প্রয়োজন ৫৫ রান, হাতে ৫ উইকেট। পাভান রাত্নায়াকে ও জানিথ লিয়ানাগের ব্যাটে তখন জয়ের স্বপ্ন দেখছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু এরপরই পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। মাত্র ১৫ রানে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে ২৬৮ রানে গুটিয়ে যায় তারা। ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৩৭ রানের জয় পায় পাকিস্তান।
রোববার রাওয়ালপিন্ডিতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি পাকিস্তানের। ৩২ রানের মধ্যেই বিদায় নেন দুই ওপেনার ফখর জামান (১৬) ও সাইম আইয়ুব (৭)। বাবর আজম (৪৫) ও অভিষিক্ত সাদ বেগ (৩৯) তৃতীয় উইকেটে ৭৪ রান যোগ করে দলকে সামাল দেন।
তবে ১১৮ রানে চতুর্থ উইকেট হারালে আবারো চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। সেই চাপ থেকে দলকে টেনে তোলেন সালমান আগা। হাসান নওয়াজের সাথে ৯৭ ও আরাফাত মিনহাসের সাথে ৬৪ রানের জুটি গড়েন তিনি। নাওয়াজ করেন ৩৭, মিনহাস ১৮ রান।
একদিকে উইকেট পড়লেও অন্য প্রান্তে অবিচল ছিলেন সালমান। ৯০ বলে ১০৭ রানের ইনিংসে ১০টি চার ও একটি ছক্কা মেরে তুলে নেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি। অথচ এর আগে সময়টা মোটেও ভালো কাটছিল না তার।
টেস্ট দল থেকে বাদ পড়েছিলেন, হারিয়েছিলেন টি-টোয়েন্টি নেতৃত্বও। কঠিন সময় পেরিয়ে প্রায় আড়াই মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছিলেন এই ম্যাচ দিয়েই। আর প্রত্যাবর্তনের ম্যাচেই ব্যাট হাতে জবাব দিলেন সালমান।
সালমান ২৯১ রানে ফিরলে শেষ দিকে আবার চাপে পড়ে পাকিস্তান। ফাহিম আশরাফ করেন ৬, শাহীন শাহ আফ্রিদি ১৩ রান। নাসিম শাহ শূন্য রানে আউট হন, হারিস রউফও রানআউট হন কোনো রান না করে। শেষ পাঁচ ওভারে ২৬ রান যোগ করেই থামে পাকিস্তানের ইনিংস।
৪৯.৫ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩০৫। শ্রীলঙ্কার হয়ে ইশান মালিঙ্গা নেন চার উইকেট, আসিথা ফার্নান্ডো তিনটি।
৩০৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শ্রীলঙ্কার শুরুটাও ছিল হতাশার। আভিশকা ফার্নান্ডো করেন ৫, অধিনায়ক কুসাল মেন্ডিস ১৮ রান। কামিন্দু মেন্ডিসের ৪৪ ও সাহান আরাচ্চিগের ৩ রানের পর ৯১ রানেই চার উইকেট হারায় দলটি। সেখান থেকে লড়াইয়ে ফেরান পাভান ও জানিথ।
পঞ্চম উইকেটে ১১৯ রানের জুটি গড়ে দুজন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে নিয়ে যান। পাভান ৭৪ বলে ৭৯ রান করে ফিরলেও জানিথ লড়াই চালিয়ে যান। দাসুন শানাকার সাথে ৪৩ রানের জুটিতে শ্রীলঙ্কাকে জয়ের আরো কাছে নিয়ে যান জানিথ।
১৮ বলে ২৮ রান করে শানাকাও দলের জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখেন। কিন্তু ৪৩.৪ ওভারে ২৫৩ রানে জানিথের ৭৪ বলে ৬০ রানের ইনিংস থামান হারিস রউফ। পরের ওভারে শানাকাকে ফেরান শাহীন আফ্রিদি। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।
আসিথা ফার্নান্ডোকে ফিরিয়ে শ্রীলঙ্কার ইনিংসের ইতি টানেন হারিস রউফ। ৪৮.১ ওভারে ২৬৮ রানে অলআউট হয় তারা। পাকিস্তানের হয়ে শাহীন নেন ৩টি ও নাসিম, হারিস ও ফাহিম আশরাফ ২টি করে উইকেট।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








