
আবুধাবিতে ত্রিদেশীয় সিরিজে যখন ব্যস্ত লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা, ঠিক তখনই ঢাকায় এসে পৌঁছেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। পাঁচ বছর পর বাংলাদেশের মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে ক্যারিবীয়দের আগমন। আর এই সিরিজে জড়িয়ে আছে টাইগারদের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন।
সর্বশেষ ২০২১ সালে বাংলাদেশ সফরে এসে দুই টেস্টের সিরিজে স্বাগতিকদের হোয়াইটওয়াশ করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই সিরিজেই টেস্ট অভিষেকে ইতিহাস গড়েছিলেন কাইল মায়ার্স, চতুর্থ ইনিংসে অপরাজিত ডাবল সেঞ্চুরি করে।
পাঁচ বছর পর সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজই আবার বাংলাদেশে। তবে এবার পরিস্থিতি বদলেছে, বদলেছে বাংলাদেশের অবস্থানও। টেস্ট ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের নতুন করে চিনিয়েছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে একটি টেস্ট জয়ের পর আত্মবিশ্বাস বেড়েছে দলের।
চলতি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ছয় ম্যাচে তিন জয়, দুই হার ও এক ড্রয়ে বাংলাদেশের পয়েন্ট শতাংশ ৫৫ দশমিক ৫৬। সামনে থাকা ছয় টেস্ট তাই হয়ে উঠেছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এই টেস্টগুলোতেই নির্ভর করছে বাংলাদেশের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ খেলার ভাগ্য।
এর মাঝে প্রথম বাধা ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ঘরের মাঠে দুই টেস্টের পর বাংলাদেশের যেতে হবে দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেখানে অপেক্ষা করছে দুই টেস্টের কঠিন সিরিজ। এরপর আগামী ফেব্রুয়ারিতে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আরো দুই টেস্ট।
অর্থাৎ ফাইনালের দৌড়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে বাংলাদেশের হাতে আছে ছয়টি ম্যাচ। সমীকরণ যতই কঠিন হোক, সুযোগটা বাংলাদেশের হাতেই। বাকি ম্যাচগুলোতে যত বেশি জয় আসবে, ফাইনালের পথ ততটাই পরিষ্কার হবে।
বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজটা ভালোভাবে শুরু করতে পারলে পরের দুই ধাপের চাপ কিছুটা কমবে। কিন্তু এখানেই বিপদ- একটি সিরিজে পয়েন্ট হারালেই পরের ম্যাচগুলোর গুরুত্ব আরো বেড়ে যাবে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের অবশ্য পুরোনো হিসাবও আছে। ২০২১ সালের সেই ২-০ হারের স্মৃতি এখনো টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে বেশ তাজা। এবার ঘরের মাঠে সেই হিসাব মেটানোর সুযোগ বাংলাদেশের সামনে।
একই সাথে সুযোগ নিজেদের টেস্ট ক্রিকেটের বদলে যাওয়া চিত্রটা আরো স্পষ্ট করে দেখানোর। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজও শেষ করবে তাদের এই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ অভিযান। ফলে অতিথিদের জন্যও ম্যাচগুলো গুরুত্বহীন নয়।
১৮ অক্টোবর ঢাকায় এসে এরই মাঝে বিশ্রাম শুরু করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২২ ও ২৩ অক্টোবর দু’দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা। এরপর ২৮ অক্টোবর মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় টেস্ট ৫ নভেম্বর থেকে সিলেটে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








