বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়ে
জিম্বাবুয়ের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। সংগৃহীত

যে জিম্বাবুয়েকে একটা সময় হেসেখেলে উড়িয়ে দিতো বাংলাদেশ, সেই জিম্বাবুয়ে যেন এখন হয়ে উঠেছে গলার কাঁটা। সর্বশেষ সিরিজে তাদের সাথে তিন ম্যাচে হেরেছিল দুটোতে, এবার ত্রিদেশীয় সিরিজেও কাটলো না সেই খরা।

Advertisement

ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে শনিবার জিম্বাবুয়ের কাছে পাত্তাই পায়নি বাংলাদেশ। ভয়াবহ ব্যাটিং ব্যর্থতায় ২০০ রানেও পৌঁছাতে পারেনি টাইগাররা। তাওহীদ হৃদয়ের দল হেরেছে ৯৯ রানের বিশাল ব্যবধানে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে টসে জিতে আগে ব্যাট করে জিম্বাবুয়ে। শুরুতে চাপে পড়লেও শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ২৭১ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পায় তারা। জবাব দিতে নেমে ১২৯ রানে ৮ উইকেট হারানো বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ৩৩.৪ ওভারে ১৭২ রানে গিয়ে থামে। 

অথচ ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় তানজিদ হাসান তামিমের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ভালোভাবেই এগোচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সৌম্য সরকার ফেরার পর দ্রুত ৩ উইকেট হারিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করে দলটি। ২১ রানের মাঝে হারায় ৩ উইকেট।

সপ্তম ওভারে এসে থামে উদ্বোধনী জুটি। মুজারাবানির বাউন্সারে ব্যাট চালিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দেন সৌম্য। বেনেটের হাতে ধরা পড়ার আগে ১৭ বলে ৯ রান করেন তিনি। ৪৭ রানে ভাঙে বাংলাদেশের প্রথম জুটি। তবে তানজিদ ব্যাট চালাতে থাকেন।

৭.৩ ওভারে দলীয় পঞ্চাশ পূর্ণ করে বাংলাদেশ। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৩৮ বলে ৯ চার ও এক ছক্কায় ৪৬ রান করা তানজিদ নেউম্যান নায়ামারির বলে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। দুর্দান্ত দক্ষতায় তালুবন্দী করেন রায়ান বার্ল।

তানজিদের বিদায়ের পরের ওভারেই আবার আঘাত। ইভান্সের ফুলার লেন্থের বলে এলবিডব্লিউ হন নাজমুল হোসেন শান্ত। ৮ বলে ৪ রান করে ফেরেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক। ৩ বলের ব্যবধানে ২ উইকেট হারিয়ে ১১ ওভারে ৩ উইকেটে ৭২ রানে পরিণত হয় বাংলাদেশ।

সেখান থেকে ম্যাচটি ধরে রাখার চেষ্টা করেন সাইফ হাসান ও তাওহীদ হৃদয়। দুজনের ব্যাটে ধীরে ধীরে ইনিংস গুছিয়ে ওঠার আভাস মিলছিল। কিন্তু সিকান্দার রাজা এসে আবারো সেই ছন্দ ভেঙে দেন। এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন তাওহীদ। 

প্রথমে আম্পায়ার সাড়া না দিলেও রিভিউ নিয়ে সফল হয় জিম্বাবুয়ে। ২১ বলে ১৩ রান করে ফেরেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। থিতু হতে পারেননি মোসাদ্দেকও, দলীয় ১১২ রানে মাসাকাদজার শিকার হন ১৮ বলে মাত্র ১১ রান করে।

এখানেও শেষ হয়নি ধস। ১২৯ রান পর্যন্ত পৌঁছাতে আরো ৩ উইকেট হারায় দল। সাইফ হাসান ৩৭ বলে ২৬ ও নুরুল হাসান সোহান ৮ বলে ৫ রান করে আউট হন। এরপর কেবল জিম্বাবুয়ের জয়ের অপেক্ষা বাড়ান রিশাদ হোসেন।

রিশাদ শেষ দিকে এসে হারের ব্যবধান কমান ৩৩ বলে ২৩ রান করে। ১৩ বলে ১৬ রান করে অপরাজিত থাকেন তাসকিন আহমেদ। জিম্বাবুয়ের হয়ে ব্রাড ইভান্স ৪, সিকান্দার রাজা ও মাসাকাদজা ২টি করে উইকেট নেন।

এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে তাসকিন আহমেদের তোপে ২৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে জিম্বাবুয়ে। সেখান থেকে ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিন মিলে গড়েন ১৭৬ বলে ১৫০ রানের জুটি। এই জুটিতেই তারা বড় সংগ্রহের ভিত।

টেলর ১০১ বলে ৮১ ও আরভিন ১০৬ বলে ৯৩ রান করে আউট হন। শেষ দিকে নিউম্যান নিয়ামুড়ি ও ওয়ালিংটন মাসাকাদজা সমান ২১ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন। তাসকিন ছাড়া ২টি করে উইকেট পান শরিফুল ও সাইফ হাসান।