
জয়ের জন্য শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৭ উইকেট। হাতে ছিল পুরো একটি দিন। অবধারিতভাবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল টাইগারদের হাতেই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তানের প্রতিরোধ ভাঙতে পারেনি বাংলাদেশ। পারেনি সমীকরণ মেলাতে।
সেদিকউল্লাহ আতালের সেঞ্চুরি আর নিচের সারির ব্যাটারদের দৃঢ়তায় আবুধাবি টেস্টে ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে। বাংলাদেশের নিশ্চিত জয় হাতছাড়া হওয়া এই ড্র-কেই তাই ‘জয়ের সমান’ মনে করছেন আফগান অধিনায়ক রহমত শাহ।
দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪২ ওভার ব্যাট করেছে আফগানিস্তান। পঞ্চম দিনেই খেলেছে ৯২ ওভার। ধীরে ধীরে সময় যত গড়িয়েছে, ততই বাংলাদেশের জয় কঠিন হয়ে উঠেছে। বারবার চেষ্টা চালিয়েও ভাঙন ধরানো যায়নি আফগানিস্তানের প্রতিরোধে।
সেই প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান সেদিকউল্লাহ আতাল। ৩৩২ বল মোকাবেলা করে ৯টি চার ও ৩টি ছক্কায় ১১১ রান করেন এই বাঁহাতি ওপেনার। টেস্টে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে বাংলাদেশের জয়ের পথে বড় দেয়াল হয়ে দাঁড়ান তিনি।
শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তানের সেই প্রতিরোধই সফল হয়েছে। ম্যাচ শেষে রহমত শাহ বলেন, ‘সত্যি বলতে, এই ড্র আমাদের কাছে জয়ের সমান। ছেলেরা দারুণ চেষ্টা করেছে। আমরা আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রেখেছিলাম।
‘বোলিং হোক কিংবা ব্যাটিং, আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছি। রান দরকার হলে রান করেছি, আর সময় কাটানোর প্রয়োজন হলে সময় কাটিয়েছি। এ কারণেই ম্যাচের ফল আমাদের পক্ষে ড্র হয়েছে।’
আতালের ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করে রহমত বলেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে টেস্টে এসে দলের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজের ব্যাটিংয়ে পরিবর্তন আনাই ছিল তার বড় কৃতিত্ব।
‘সেদিকউল্লাহ টি-টোয়েন্টি খেলে এখানে এসেছে। এরপরও সে যেভাবে নিজের মেজাজ ধরে রেখেছে, দলের চাহিদা পূরণ করেছে এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে, সেটিই এই ফল এনে দিয়েছে।’
তবে শুধু আতাল নন, পুরো ব্যাটিং ইউনিটের সম্মিলিত প্রতিরোধেই ম্যাচ বাঁচানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেন আফগানিস্তানের ব্যাটিং কোচ টবি র্যাডফোর্ড। বিশেষ করে শেষ দিনে নিচের সারির ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করেছেন তিনি।
র্যাডফোর্ড বলেন, ‘দল হিসেবে আমি দারুণ খুশি যে ম্যাচে দুজন ব্যাটার সেঞ্চুরি করেছে, আর অন্যরাও হাফ সেঞ্চুরি ও গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে অবদান রেখেছে। আজ লোয়ার অর্ডারের ব্যাটাররাও ভালো ও বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিং করেছে।’
শেষ দিনের পরিকল্পনা ছিল পরিষ্কার—উইকেট না হারিয়ে যতটা সম্ভব সময় কাটানো। ডট বল কিংবা মেডেন ওভার এলেও বিচলিত না হয়ে সময়কে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাই কাজে দিয়েছে বলে জানান র্যাডফোর্ড।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








