আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টে জয়টা হাতছাড়া হয়েছে বাংলাদেশের
আবুধাবি টেস্টে জয় হাতছাড়া হয়েছে বাংলাদেশের। সংগৃহীত

আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টে জয়টা হাতছাড়া হয়েছে বাংলাদেশের। পাঁচ দিন ধরে কঠিন ক্রিকেট খেলার এই অভিজ্ঞতাকেই ম্যাচের প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তার বিশ্বাস, এমন অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে আরো কঠিন লড়াই সামলাতে দলকে পরিণত করবে।

Advertisement

যদিও ৪৭৯ রানের লক্ষ্য দিয়েও আফগানিস্তানকে অলআউট করতে না পারার হতাশা আছে শান্তর। শেষ দিনে একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে এই হতাশার মাঝেও দলের ব্যাটিং ও পেস আক্রমণের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক দিক খুঁজে পাচ্ছেন অধিনায়ক।

মঙ্গলবার ম্যাচ শেষে শান্ত বলেন, ‘এটা আমাদের দলের জন্য বড় একটা শিক্ষা। পাঁচ দিন কঠিন টেস্ট ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা আমাদের আরো পরিণত করবে। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এলে এই অভিজ্ঞতা অবশ্যই কাজে লাগবে।’

ম্যাচের ফল প্রত্যাশা মতো না হলেও ব্যাটিং ইউনিটের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট শান্ত। বিশেষ করে লিটন দাসের রানে ফেরা ও মুশফিকুর রহিমের ধারাবাহিকতা তাকে আশাবাদী করছে। সামনে গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজ থাকায় আবুধাবির এই অভিজ্ঞতা দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলেও মনে করেন তিনি।

শান্ত বলেন, ‘বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে আমাদের সামনে বড় সুযোগ রয়েছে। এই ম্যাচের জন্য আমরা যে প্রস্তুতি ও পরিশ্রম করেছি, তা পরের সিরিজে কাজে দেবে। আমাদের ব্যাটিং ইউনিট যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে আমি বিশেষভাবে খুশি। লিটন আবারো রান পেয়েছে, মুশফিকও দারুণ ফর্মে আছে। দলের জন্য এটা খুবই ইতিবাচক।’

আফগানিস্তানের বিপক্ষে লিটনের পারফরম্যান্সে আলাদা করে মুগ্ধ শান্ত। প্রথম ইনিংসে ৫৩ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ১০২ রানের সেঞ্চুরি করেন লিটন। শুধু ব্যাট হাতেই নয়, উইকেটের পেছনেও দীর্ঘ সময় দায়িত্ব সামলে দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ছিলেন তিনি।

লিটনের এমন পারফরম্যান্সকে অসাধারণ উল্লেখ করে শান্ত বলেন, ‘লিটন এই ম্যাচে যা করেছে, তা সত্যিই অসাধারণ। তবে শুধু এই ম্যাচ নয়, গত কয়েক বছর ধরেই সে উইকেটের পেছনে ও ডিআরএসের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে দারুণ করছে। এমন কন্ডিশনে সেঞ্চুরি করার পর ১৪০ ওভার উইকেটকিপিং করা তার মানসিক শক্তির পরিচয় দেয়। আশা করি, ব্যাট ও গ্লাভস দুই জায়গাতেই সে এই ফর্ম ধরে রাখবে।’

ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশের পেস আক্রমণ নিয়েও সন্তুষ্ট অধিনায়ক। বিশেষ করে হাসান মাহমুদের ধারাবাহিকতায় আস্থা রাখছেন তিনি। কন্ডিশন কিংবা প্রতিপক্ষ- কোনোটিই হাসানের পারফরম্যান্সে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না বলে মনে করেন শান্ত।

তিনি বলেন, ‘আমি যখনই হাসানের হাতে বল তুলে দিই, সে দলের জন্য ভালো কিছু করে। কন্ডিশন যেমনই হোক, অস্ট্রেলিয়া কিংবা উপমহাদেশ- সে অসাধারণ পারফর্ম করছে।’

হাসানের পাশাপাশি ইবাদত হোসেন, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা, খালেদ আহমেদ ও শরীফুল ইসলামের পরিশ্রমেরও প্রশংসা করেছেন শান্ত। তার মতে, বাংলাদেশের পেস আক্রমণ গত কয়েক বছরে দলের বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।