বাংলাদেশকে হারিয়ে অবিশ্বাস্য ড্র করেছে আফগানিস্তান
বাংলাদেশকে হারিয়ে অবিশ্বাস্য ড্র করেছে আফগানিস্তান। সংগৃহীত

আবুধাবিতে জিততে পারল না বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের কড়া প্রতিরোধের মুখে ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো। দিনভর বোলিং করেও স্বাগতিকদের গুটিয়ে দিতে পারেননি মিরাজ-হাসান মাহমুদরা। 

Advertisement

৪৭৮ রানের বিপরীতে জয়ের জন্য শেষ দিনে আফগানিস্তানের প্রয়োজন ছিল ৩৪৭ রানের অসম্ভব এক পাহাড়। অন্যদিকে বাংলাদেশের সমীকরণটা ছিল অপেক্ষাকৃত সহজ, ৭ উইকেট তুলে নিলেই নিশ্চিত হতো জয়।

টেস্টের পঞ্চম দিনে এসে ৭ উইকেট তুলে নেয়া আহামরি কঠিন কিছু নয়। তবে আফগানদের ঠোঁট কামড়ানো প্রতিরোধের মুখে দিনভর বোলিং করেও ৫ উইকেটের বেশি নিতে পারেনি টাইগার বোলাররা। 

দিনশেষ হওয়ার আগে ১৪২ ওভার ব্যাট করে ৮ উইকেটে ৩৪৬ করেছে আফগানিস্তান। তাতেই তারা পেয়েছে জয় সমতুল্য অবিশ্বাস্য এক ড্র। যার নায়ক সেদিকুল্লাহ আতাল। তার ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়েই ভেঙে গেছে টাইগারদের জয়ের স্বপ্ন।

বাংলাদেশের বোলারদের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান এই ওপেনার। ৩৩২ বলের ম্যারাথন ইনিংসে ১১১ রান করেন তিনি। নয়টি চার ও তিনটি ছক্কায় সাজানো তার ইনিংসটি ছিল ধৈর্য, দৃঢ়তা ও উইকেট আঁকড়ে থাকার অসাধারণ উদাহরণ।

যদিও শেষ পর্যন্ত তাকে ফিরিয়ে আফগানিস্তানের সপ্তম উইকেট তুলে নেন তাইজুল ইসলাম। তবে ততক্ষণে ম্যাচের ফল বদলে দেয়ার মতো সময় আর অবশিষ্ট ছিল না। সুযোগও দেননি আফগান ব্যাটাররা।

বাংলাদেশের বোলাররা একাধিকবার উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের সম্ভাবনা জাগালেও আফগান ব্যাটাররা প্রতিবারই নতুন করে প্রতিরোধ গড়েছেন। ফিল্ডারদের ভুলও ছিল। বেশ কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ।

দিনের শেষ ভাগে ম্যাচের উত্তেজনা আরো বাড়ে। একের পর এক ওভার পেরিয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় উইকেট আসছিল না। কায়েস আহমদও শেষদিকে পাল্টা আক্রমণে বাংলাদেশের আশা কঠিন করে তোলেন।

৮০ বলে ৪৯ রান করে তিনি আফগানিস্তানের স্কোর এগিয়ে নেন। শেষ পর্যন্ত ১৪২ ওভার ব্যাট করে ৩৪৬ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ইনিংস শেষ করে আফগানিস্তান। জয়ের জন্য তখনো ১৩৩ রান প্রয়োজন ছিল, কিন্তু হাতে থাকা দুই উইকেট বাঁচিয়ে রেখে ম্যাচ ড্র করতে সক্ষম হয় তারা।

রান বেশি না পেলেও ড্র করতে বড় ভূমিকা রাখেন ইসমাত আলম ও ইয়ামিন আহমাদজাই। দু’জন মিলে ১৪৫ বল খেলে করেন মাত্র ২৩ রান। রান করার চেয়ে তাদের লক্ষ্য ছিল উইকেট আগলে রাখা। সেই কাজেই তারা সফল।

এদিন আতালের সাথে সমানতালে প্রতিরোধ গড়েছেন রহমত শাহ, হাশমতুল্লাহ ও ইকরাম আলিখিলও। প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ১০৫ রান করা রহমত দ্বিতীয় ইনিংসেও করেন ৫১। আতালের সাথে তার গুরুত্বপূর্ণ জুটি আফগানিস্তানকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে।

অথচ এর আগে এই টেস্টে জয়ের ভিতটা শক্তভাবেই গড়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান করার পর আফগানিস্তানকে ২৪০ রানে অলআউট করে ১০৬ রানের লিড নেয় দল। হাসান মাহমুদ হ্যাটট্রিকসহ ৫ উইকেট নেন, আর ইবাদত হোসেন নেন ৪ উইকেট।

এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে লিটন দাসের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে সেই সম্ভাবনা আরো উজ্জ্বল হয়। নাজমুল হোসেন শান্তর ৮২ ও মুশফিকুর রহিমের ৮১ রানের পর লিটন খেলেন ১০২ রানের ইনিংস। মেহেদী মিরাজের সাথে সপ্তম উইকেটে তার ১৪৯ রানের জুটি দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেয়।

৩৭২ রান তুলে ৭ উইকেটে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৪৭৮ রানের লিড থেকে আফগানিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৭৯। টেস্ট ক্রিকেটে এত বড় লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের নজির না থাকায় বাংলাদেশের সামনে তখন ছিল ম্যাচ জয়ের দারুণ সুযোগ।

চতুর্থ দিন শেষে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ছিল ১৩২ রানে ৩ উইকেট। শেষ দিনে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৭ উইকেট, আর আফগানিস্তানের দরকার ছিল ৩৪৭ রান। সমীকরণ বাংলাদেশের পক্ষেই ছিল। কিন্তু  সেই সমীকরণ আর মেলাতে পারেনি বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের বোলাররা লড়াই করেছেন, উইকেটও পেয়েছেন নিয়মিত বিরতিতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাকি দুই উইকেট তুলে নেয়া সম্ভব হয়নি। জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও তাই শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো বাংলাদেশকে।