
ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯ গোল হজম করে মাঠে যখন বাংলাদেশের ফুটবলের চরম দুর্দশার ছবি ফুটে উঠেছে, তখনই মাঠের বাইরের আরেক ঘটনায় শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। অভিযোগ, সেই ম্যাচের রাতেই জাতীয় দলের কয়েকজন ফুটবলার গিয়েছিলেন নাইট ক্লাবে।
গভীর রাতে হোটেলের বাইরে তাদের অবস্থান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবি নিয়ে এবার শুধু খেলোয়াড়দের আচরণ নয়, প্রশ্ন উঠেছে পুরো দলীয় ব্যবস্থাপনা নিয়েও।
গত ১ অক্টোবর এশিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলে হারে বাংলাদেশ। ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে- সাদ উদ্দিন ও সোহেল রানা সেই রাতে একটি নাইট ক্লাবে গিয়েছিলেন।
সেখানে কয়েকজন নারীর সাথে তাদের ছবি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। অভিযোগ উঠেছে, ওই রাতে আরো কয়েকজন ফুটবলার হোটেলের বাইরে ছিলেন।
ঘটনাটি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। রোববার (৪ অক্টোবর) এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, এত বড় ব্যবধানে হারের পর একজন ফুটবলার কিভাবে নাইট ক্লাবে যাওয়ার কথা ভাবতে পারেন।
তিনি বলেন, ‘যে প্লেয়ারটি নাইট ক্লাবে গিয়েছেন, এটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এরকম একটি পারফরম্যান্স করার পর এই ধরনের দুঃসাহস করল কিভাবে।’ তবে প্রতিমন্ত্রীর ক্ষোভ শুধু খেলোয়াড়দের ঘিরে নয়। ম্যানেজমেন্টকেও দায়ী করছেন।
এতজন কর্মকর্তা সাথে থাকার পরও খেলোয়াড়েরা কিভাবে গভীর রাতে হোটেল থেকে বেরিয়ে গেলেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। দলীয় ব্যবস্থাপনা কোথায় ছিল, কারা খেলোয়াড়দের দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন—এসবেরও জবাব চান আমিনুল হক।
এখানেই থামেননি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। দলের ব্যবস্থাপনা নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তার প্রশ্ন, ‘কোথায় ছিল তার ম্যানেজমেন্ট। কারা দায়িত্বে ছিল।’ একইসাথে জানিয়েছেন, ‘যারা নাইট ক্লাবে গিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে ডেফিনেটলি ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশান হবে।’
এ ঘটনায় ক্রীড়া মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আমিনুল হক জানিয়েছেন, ‘রেজাল্ট যাই হোক সবাইকে জবাবদিহিতার মাঝে আসতে হবে।’ সাদ উদ্দিন ও সোহেল রানা ক্রীড়া ভাতার আওতায় থাকলে সেখান থেকেও তাদের বাদ দেয়ার কথা বলেছেন তিনি।
এদিকে সামনে এসেছে ম্যানেজার পরিবর্তনের বিষয়টিও। এশিয়ান কাপের অনুশীলন ক্যাম্প শুরুর পর জাতীয় দলের ম্যানেজারের দায়িত্বে পরিবর্তন আনে বাফুফে। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা আমের খানের জায়গায় দায়িত্ব দেয়া হয় আমিরুল ইসলাম বাবুকে।
এবার খেলোয়াড়দের রাতের কর্মকাণ্ডের অভিযোগের পর নতুন ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে তদন্ত শেষেই জানা যাবে, সেই রাতে আসলে কী ঘটেছিল এবং দায়টা কতটা খেলোয়াড়দের, কতটা ম্যানেজমেন্টের।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








