নিগার সুলতানা জ্যোতি
নিগার সুলতানা জ্যোতি। সংগৃহীত

এশিয়ান গেমসের আগে টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছাড়তে চেয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) ই-মেইল করেছিলেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। ওয়ানডে নেতৃত্ব থেকেও তিনি সরে দাঁড়াতে পারেন—এমন গুঞ্জনও ছিল। তবে আপাতত নেতৃত্বে থাকছেন জ্যোতিই।

অস্ট্রেলিয়া সফরে বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক হিসেবে জ্যোতিকেই রাখা হয়েছে। 

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নারী দলের ক্রিকেটারদের সাথে বৈঠক শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিসিবির নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু।

বাবু বলেন, ‘আজকে আমি ঘোষণা করেছি—তুমি (জ্যোতি) অধিনায়ক থাকছো, অস্ট্রেলিয়ায় যাবে, তুমি অধিনায়ক হিসেবে।’

এশিয়া কাপ ও এশিয়ান গেমস থেকে ফেরার পর সোমবারই প্রথম নারী দলের ক্রিকেটারদের সাথে বসে বিসিবির নারী উইং। দলের কোনো সমস্যা আছে কি না, কী করলে আরো ভালো করা যায়—এসব বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান বাবু।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কঠিন সিরিজের আগে ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। আগামী ৩ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়া সফরে যাবে বাংলাদেশ নারী দল। সেখানে তিনটি ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দলটির।

বাবু বলেন, ‘আগামী ৩ তারিখে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া সফরে যাচ্ছে, তিনটি ওয়ানডে খেলতে। সেখানে তারা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দল অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে। আমরা তাদের উৎসাহমূলক কথা বলেছি—আরেকটু ভালো করলে ইনশাআল্লাহ একসময় আমরা সব দেশকেই হারাতে পারব।’

বৈঠকে দলের ভেতরের শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়েও ক্রিকেটারদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাবু বলেন, ‘আমাদের এখন দরকার দলের ভেতরে শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি বজায় রাখা। এগুলো যদি আমরা ঠিকভাবে বজায় রাখতে পারি, তাহলে আমাদের আরো ভালো হবে, ইনশাআল্লাহ।’

এদিকে হেড কোচ সারোয়ার ইমরানের সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়েও কথা বলেছেন বাবু। তার মতে, কোচ আগে বোর্ডের সাথে আলোচনা করলে বিষয়টি সহজেই সমাধান করা যেত।

বাবু বলেন, ‘এটা তো শুধু একটি ই-মেইল দেয়ার সমাধান নয়। ই-মেইল দেয়ার আগে বা গণমাধ্যমে কথা বলার আগে আমাদের সাথে কথা বললে বিষয়টা অনেক সহজ হতো ও ঠিক থাকতো। কিন্তু এখানে সেটা ভেঙেছে।’

কোচের আচরণে নারী ক্রিকেটারদের কেউ কেউ মনোবল হারিয়েছিলেন বলেও জানান নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান। ক্রিকেটারদের কাছ থেকে এমন প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই। তারা তো বলেছে দেখেই তো আমরা পেয়েছি, না হলে তো আমরা পেতাম না।’

কোচদের আচরণ নিয়ে বাবু আরো বলেন, ‘ক্রিকেট একটা শৃঙ্খলার খেলা, অনেক মার্জিত খেলা। আমি যেটা বলি, এটা রাজকীয় খেলা। এখানে যারা কোচ হন বা টিম ম্যানেজমেন্টে থাকেন, কারো কাছ থেকেই আমরা অসদাচরণ আশা করি না।’

সারোয়ার ইমরানের আচরণ প্রসঙ্গে তার মন্তব্য, ‘সব কোচ তো একরকম হয় না। উনি হয়তো একটু বেশি উগ্র মেজাজের। সবসময় ব্যবহারের ক্ষেত্রে ঠিক করেননি। সেই কারণে মেয়েরা একটু মনোবল হারাতো।’