
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চতুর্থ চক্রে (২০২৫-২০২৭) বাংলাদেশের ফাইনাল খেলার ব্যাপারে আশাবাদী দলের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ।
জাতীয় দলের আশপাশে থাকা ও উঠতি স্পিনারদের নিয়ে মিরপুরে তিন দিনের ক্যাম্প করছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার মুশতাক আহমেদ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) অনুশীলন শেষে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশের খেলার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
মুশতাক আহমেদ বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল কেন নয়! আমরা এখন দারুণ অবস্থায় আছি। আমরা ভালো খেলা অব্যাহত রাখা এবং বিশ্বাস বজায় রাখতে পারলে ইনশাআল্লাহ, পুরো পথ অতিক্রম করার সঠিক সময় আমাদের কাছে আছে।’
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এখন পর্যন্ত ৬ ম্যাচ খেলে ৩টিতে জয়, ২টিতে হার ও ১টি ড্র করে ৫৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থ স্থানে আছে বাংলাদেশ। এই চক্রে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচ ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ।
গত মাসে অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করে বাংলাদেশ। ডারউইনে প্রথম টেস্টে ব্যাট-বল হাতে দাপট দেখিয়ে ৯ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় টাইগাররা।
টেস্ট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অসিদের বিপক্ষে জয়ের ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ। ম্যাকাইতে দ্বিতীয় টেস্ট ইনিংস ও ৫১ রানে হেরে সিরিজ সমতায় শেষ করে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে উল্লেখ করে মুশতাক আহমেদ বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডকে বা দক্ষিণ আফ্রিকাকে তাদের মাটিতে হারানোর বিশ্বাস থাকলে, জয় অসম্ভব নয়। পাকিস্তানকে আমরা শেষ দুই ম্যাচেই হারিয়েছি। এখন বাংলাদেশ দল হারার ভয় পায় না।’
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চতুর্থ চক্রে আরো ছয়টি ম্যাচ বাকি আছে বাংলাদেশের। অক্টোবরে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এবং আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দু’টি করে টেস্ট খেলবে টাইগাররা।
বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট ও হাই পারফরম্যান্স প্রোগ্রামের আওতায় থাকা ২০ স্পিনারকে নিয়ে কাজ করছেন মুশতাক। অনুশীলনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে স্পিনারদের টেকনিক ও ভুলত্রুটি নিয়ে কাজ করছেন তিনি। তিনটি ক্যামেরার মাধ্যমে তিন দিক দিয়ে স্পিনারদের বোলিং অ্যাকশন রেকর্ড করা হচ্ছে।
স্পিনারদের নিয়ে অনুশীলনের বিষয়ে মুশতাক বলেন, ‘আমি মনে করি, বিসিবি ও হাই পারফরমেন্স ইউনিটের এটি একটি দারুণ উদ্যোগ। আমরা এখানে তিনটি ক্যামেরা দিয়ে সামনে-পেছন ও পাশ থেকে স্পিনারদের বোলিং অ্যাকশন রেকর্ড করছি। এতে স্পিনারদের অ্যাকশন নিয়ে ভালোভাবে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। এ ছাড়াও স্থানীয় কোচদের সাথে নিয়েও আমরা কাজ করছি। যাতে তারা স্পিন বিভাগ ও পরিস্থিতি সামলানোর বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে পারে। আমরা এখানে মূলত মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছি। সব স্পিনারের অ্যাকশন, টেকনিক্যাল ও ট্যাকটিক্যাল দিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’
সূত্র : বাসস








