ক্রিকেট
সংবাদ সম্মেলনে লিটন দাস সংগৃহীত

জাতীয় দলের হয়ে প্রায় সব ধরনের ক্রিকেটেই খেলেছেন লিটন দাস। বিভিন্ন টুর্নামেন্টে দেশকে করেছেন প্রতিনিধিত্ব। তবে এশিয়ান গেমসের অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে বড় একটি ক্রীড়া আসরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার রোমাঞ্চ নতুন করে অনুভব করছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

আর সেই রোমাঞ্চের সাথে জড়িয়ে আছে ১৬ বছর পর ক্রিকেটের স্বর্ণের পদক জয়ের স্বপ্ন। সেই লক্ষ্যে আইচি-নাগোয়া গেমসে খেলতে লিটনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল ঢাকা ছাড়বে বৃহস্পতিবার রাতে। নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে এ দিনই শুরু হবে ছেলেদের ক্রিকেটের গ্রুপ পর্বের খেলা। তবে বাংলাদেশ সরাসরি কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে খেলবে।

২০১০ সালে গুয়াংজুতে ক্রিকেটের স্বর্ণ জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর ২০১৪ সালে ব্রোঞ্জ, ২০২৩ সালেও ব্রোঞ্জ—স্বর্ণের পদক আর ফেরেনি। এবার ব্যবধানটা ঘোচানোর মঞ্চে নামছে দল। সামনে আছে শক্তিশালী ভারতও। আর সেই লড়াইয়ের আগে অধিনায়ক লিটনের কণ্ঠে একটাই বড় স্বপ্ন—ফাইনালে যাওয়া এবং ১৬ বছর পর আবারো বাংলাদেশের গলায় স্বর্ণের পদক তুলে দেয়া।

তবে আগের আসরগুলোতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে কখনো ছায়া দল, কখনো জাতীয় দল। ২০১৪ সালে জাতীয় দল খেললেও সেই দলের কেউ এবার নেই। ফলে বর্তমান জাতীয় দলের নিয়মিত ক্রিকেটারদের জন্য এশিয়ান গেমসের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ নতুন।

লিটনের কাছে তাই এই আয়োজনের গুরুত্বও আলাদা। জাতীয় দলের হয়ে ট্রফির জন্য লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা থাকলেও এবার লড়াইটা দেশের জন্য একটি পদক জয়ের। তার চোখ অবশ্য স্বর্ণের দিকেই।

‘অবশ্যই বাংলাদেশ দল খেলেছে অনেকবার। এই প্রথমবার আমিসহ আমরা খেলার সুযোগ পেয়েছি। আমার কাছে এটা বড় ব্যাপার। জাতীয় দলকে সার্ভ করছি, সাথে এরকম একটি জায়গায় খেলা, অনেক বড় ব্যাপার এটা। এমনিতে জিতলে আপনি ট্রফি জিতবেন, কিন্তু এখানে স্বর্ণের পদকের বিষয় থাকে। এটাই একটা বড় স্বপ্ন এবং আমার মনে হয় দলের সবাই অনেক রোমাঞ্চিত।’

এবার সেই স্বপ্নের পথে বাংলাদেশের অন্যতম বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত। এশিয়ান গেমসে এবারই প্রথমবারের মতো মূল জাতীয় দল পাঠিয়েছে তারা। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয়ার চ্যালেঞ্জও তাই থাকছে বাংলাদেশের সামনে।

তবে প্রতিপক্ষ নিয়ে না ভেবে নিজেদের লক্ষ্যেই মনোযোগ লিটনের। তার মতে, এই টুর্নামেন্ট নিয়মিত আসে না। তাই সুযোগটি কাজে লাগাতে চান দলের সবাই।

‘প্রত্যাশা তো সবাই করবে। এমনকি আমি খেলোয়াড় হিসেবে আমিও তো আশা নিয়েই যাব যে, ওখানে ভালো কিছু করব। আমি একটা জিনিস বলতে পারি, আমাদের দলের সবাই অনেক আগ্রহ নিয়ে আছে এই টুর্নামেন্ট খেলার জন্য।’

‘এই টুর্নামেন্টটা প্রতিবার আসে না। আপনি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ বা জাতীয় দলে যে কোনো জিনিস এক বছর পরপরই পেয়ে যাবেন। কিন্তু এই খেলাটা (এশিয়ান গেমস) খুব সবসময় আসে না। আমাদের প্রত্যেকেই অনেক রোমাঞ্চিত এবং সবচেয়ে বড় স্বপ্ন যেটা, সেটাই পূরণ করার চেষ্টা করব আমরা।’

এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটের লড়াই হবে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে। বাংলাদেশের সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজ ছিল জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। দীর্ঘ বিরতির পর ম্যাচ অনুশীলনের ঘাটতি কাটাতে প্রস্তুতি ক্যাম্পে নিজেদের মধ্যে দুটি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট লিটনও।

‘প্রস্তুতি খুবই ভালো হয়েছে। দুইটা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছি অনেকদিন পর। আমরা সবশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছি জিম্বাবুয়েতে। ওখান থেকে একসাথে বন্ডিং হওয়ার একটা সুযোগ ছিল এই প্রস্তুতি ম্যাচ।’

‘আমার মনে হয়, আমরা প্রস্তুতি খুবই ভালো নিয়েছি। আর অবশ্যই এখানে লক্ষ্য তো একটাই থাকবে। যেহেতু একটা টুর্নামেন্ট খেলতে যাচ্ছি, ফাইনাল খেলা এবং ফাইনালে যেন ভালো কিছু করতে পারি।’

বাংলাদেশের সামনে শুধু এশিয়ান গেমসের পদকের লড়াই নয়, ক্রিকেটের আরো বড় মঞ্চের স্বপ্নও আছে। ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ফিরছে ক্রিকেট। সেই স্বপ্নের কথাও মাথায় আছে লিটনের। তবে আপাতত তার কাছে প্রথম কাজ এশিয়ান গেমসে ভালো করা।

‘দেখেন, অলিম্পিক কে না খেলতে চায়? কিন্তু সবার আগে, আমরা যে ইভেন্টের জন্য যাচ্ছি, আমরা যদি এই ইভেন্টে ভালো খেলি, আমার মনে হয় আল্টিমেট জায়গায় ওখানে আমরা পৌঁছে যাব। তাই লক্ষ্যটা হচ্ছে এই ইভেন্টে আমরা কিভাবে ভালো খেলতে পারি এবং কিভাবে ফাইনাল পর্যন্ত যেতে পারি।’