পাকিস্তানের কাছে ৩১ রানে হেরেছে বাংলাদেশ
পাকিস্তানের কাছে ৩১ রানে হেরেছে বাংলাদেশ সংগৃহীত

এশিয়ান গেমস থেকে খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে নিগার সুলতানা জ্যোতিদের। মেয়েদের ক্রিকেট থেকে কোনো পদকই জিততে পারেনি টাইগ্রেসরা। পাকিস্তানের কাছে ৩১ রানে হেরে চতুর্থ হয়েই এশিয়ান গেমস শেষ করেছে বাংলাদেশ।

২০১০ ও ২০১৪ সালে ফাইনালে উঠে রুপা জেতা দলটি ২০২২ সালে হাংজু আসরে পেয়েছিল ব্রোঞ্জ। এবার সেই পদকও ধরে রাখতে পারল না নিগার সুলতানারা। আরো একবার সমর্থকদের হতাশ করলো তারা।

মঙ্গলবার জাপানের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪৫ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। জবাবে ৭ উইকেটে ১১৪ রান করতে পারে বাংলাদেশ। 

পাকিস্তানের ইনিংসে সর্বোচ্চ রান করেন অধিনায়ক ফাতিমা সানা। ৩০ বলে ৪৫ রানের ঝড়ো ইনিংসে তিনটি চার ও তিনটি ছক্কা হাঁকান তিনি। তার আগে গুল ফেরোজা ২৩ বলে ৩১ রান করেন ছয়টি চারে।

আলিয়া রিয়াজ ২২ বলে ২৫ ও শাওয়াল জুলফিকার করেন ২৭ বলে ১৭ রান। শেষ দিকে ফাতিমার ব্যাটে ভর করে ১৪৫ রানে পৌঁছে পাকিস্তান।

বাংলাদেশের বোলারদের মাঝে নাহিদা আক্তার ৪ ওভারে ২১ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। স্বর্ণা আক্তার ৩ ওভারে ১৬ রান দিয়ে ২টি এবং রিতু মনি ৩ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন।

১৪৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে ছিল বাংলাদেশ। প্রথম ১০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৪৩ রান তুলতে পারে তারা। ফলে শেষ ৬০ বলে প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায় ১০৩ রান। সেই কঠিন সমীকরণ আর মেলাতে পারেনি নিগাররা।

বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান করেন শারমিন আক্তার। তার ব্যাটে আসে ৪৫ বলে ৪৬ রান। তবে তার ইনিংসে প্রয়োজনীয় আক্রমণাত্মক গতি না থাকায় লক্ষ্য তাড়া করা কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া নিগার সুলতানা ৩০ বলে ২৫ রান করেন।

বাংলাদেশের ইনিংসের শেষ পর্যন্ত উইকেটে ছিলেন নাহিদা আক্তার ও শারমিন আক্তার। কিন্তু তারাও প্রয়োজন মেটাতে পারেননি। ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১১৪ রানের বেশি করতে পারেনি বাংলাদেশ। পাকিস্তানের হয়ে ফাতিমা সানা ও তাসমিয়া রুবাব ১টি করে উইকেট নেন।

এর আগে সেমিফাইনালে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে নামতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। আর এবার পাকিস্তানের কাছে হারায় এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেট থেকে এবার কোনো পদক ছাড়াই ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

এছাড়া পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটিই টি-টোয়েন্টি সংস্করণে বাংলাদেশ অধিনায়ক হিসেবে নিগার সুলতানার শেষ ম্যাচ। এশিয়ান গেমসের পর অধিনায়কত্ব ছাড়ার কথা আগেই জানিয়েছিলেন তিনি।