নোয়াখালীতে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগ 
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরেন জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার । নয়া দিগন্ত

নোয়াখালীতে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, দলীয়করণ, অযোগ্য ব্যক্তিদের ডিলারশিপ প্রদান এবং অবৈধভাবে সার পাচারের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে নোয়াখালী জেলা জামায়াত।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় দলটির জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার এসব অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরেন।

জেলা আমির ইসহাক খন্দকার বলেন, সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি বলে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে। যাদের সার ব্যবসার পূর্ব অভিজ্ঞতা, নিজস্ব দোকান কিংবা প্রয়োজনীয় গুদাম নেই, এমন ব্যক্তিদেরও ডিলারশিপ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় অযোগ্য ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের ডিলার নিয়োগের বিষয়টিও সামনে এসেছে। এমনকি কৃষি কর্মকর্তার বাবাকে ডিলারশিপ দেয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

জেলা আমির বলেন, প্রকৃত সার ব্যবসায়ী ও দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের অনেকেই ডিলারশিপ পাননি। অথচ তাদের কারো নিজস্ব গুদাম রয়েছে, আবার কেউ গুদাম ভাড়া নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। অভিজ্ঞ ও অবকাঠামোগত সক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে অনভিজ্ঞদের ডিলার নিয়োগ করায় সার সংরক্ষণ ও সুষ্ঠু বিতরণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সার পাচারের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, অতীতেও নোয়াখালী থেকে ভারতে সার পাচারের অভিযোগ ও তথ্য সামনে এসেছে। বর্তমানে সার পাচার হয়ে মিয়ানমারে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাচারের মাধ্যমে দেশের কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার বাইরে চলে গেলে স্থানীয় পর্যায়ে সার সঙ্কট তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি সারের বিনিময়ে দেশে নিষিদ্ধ মাদক প্রবেশের আশঙ্কাও রয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং জাতীয় স্বার্থের সাথে জড়িত।

জেলা জামায়াত আমির বলেন, প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। সার পাচারের সাথে মাদক প্রবেশের কোনো যোগসূত্র থাকলে তা দেশের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন।

ইসহাক খন্দকার অভিযোগ করেন, সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের বিষয়ে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। বরং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে একে অন্যের ওপর দায় চাপানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশে যখন সার সঙ্কটের আশঙ্কা ও কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার প্রাপ্তি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, তখন ডিলার নিয়োগে অনিয়ম হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ কৃষকরা। কৃষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সার বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতা নোয়াখালীসহ সারা দেশের সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ ও সুনির্দিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান। একই সাথে তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানান। 

তিনি যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত সার ব্যবসায়ী এবং অভিজ্ঞ, সৎ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ডিলারশিপ প্রদানের আহ্বান জানান। একই সাথে, সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

জেলা জামায়াত আমির ইসহাক খন্দকার বলেন, কৃষকের স্বার্থ, দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও সার বিতরণ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান অনিয়মের অবসান ঘটানো জরুরি।