
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ঝন্টু হত্যা মামলায় দীর্ঘ ১৭ বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলার দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে আরো দুই মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) চুয়াডাঙ্গা জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো: মোক্তাগীর আলম এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত দু’জন হলেন— আলমডাঙ্গার গাংনী ইউনিয়নের শালিকা গ্রামের সোলায়মান আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন ও একই গ্রামের মরহুম আবু ছদ্দিনের ছেলে আবুল কালাম আজাদ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত ঝন্টুর বাবা জাহা বক্স মণ্ডল ২০০৯ সালের ২০ এপ্রিল আলমডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ইসমাইল হোসেনকে ও অজ্ঞাত পরিচয় আরো দুই থেকে তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বাদী ও অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন পান ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন। ২০০৯ সালের ১৯ এপ্রিল রাত সাড়ে ৭টার দিকে মোবাইলফোনে ইসমাইলের কল পেয়ে টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন ঝন্টু। পরদিন গ্রামের একটি ধানক্ষেতে তার লাশ পাওয়ার খবর আসে। আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে এজাহারে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়।
মামলার তদন্তে ইসমাইল হোসেনের পাশাপাশি একই গ্রামের মরহুম আবু ছদ্দিনের ছেলে আবুল কালাম আজাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও উঠে আসে।
তদন্ত কর্মকর্তা ২০০৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর তাদের দু’জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। পরে তদন্ত কর্মকর্তা তাদের দু’জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিল করেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো দুই মাসের কারাদণ্ড দেন।
রায়ের বিষয়ে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আ স ম আব্দুর রউফ বলেন, ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরো দুই মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট, পরিবারটি ন্যায়বিচার পেয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








