আদালত
মৃত কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী। নয়া দিগন্ত

কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। 

Advertisement

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সামসুল আলম।

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার নাওতলা গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে মো: সোহাগ (৩৪), আদর্শ সদর উপজেলার ধর্মপুর এলাকার মরহুম হারুন মিয়ার ছেলে ইসমাইল হোসেন জনি (২৮), একই উপজেলার আমড়াতলী গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে এমরান হোসেন ওরফে হৃদয় (৩৪), আড়াইওরা গ্রামের মরহুম হাবিবুর রহমানের ছেলে রাহাত হোসেন জুয়েল (২৭) এবং ধর্মপুর এলাকার মরহুম সজল মিয়ার ছেলে মো: সুজন (৩২)। তারা বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো: সামসুল আলম বলেন, ‘আলোচিত এ হত্যা মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করে বিচারের জন্য মামলাটি কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠিয়েছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আসামি জনি, জুয়েল ও সুজনের স্থায়ী ঠিকানা তদন্তে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে অভিযোগপত্রে তাদের ‘ভাসমান’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।’

নিহত বুলেট বৈরাগী ৪১তম বিসিএসের নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ও কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামে। তিনি সুশীল বৈরাগীর ছেলে। চাকরির সুবাদে পরিবার নিয়ে কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জের পানপট্টি এলাকায় বসবাস করতেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, চট্টগ্রামের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং অ্যাকাডেমিতে ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে গত ২৪ এপ্রিল চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হন বুলেট বৈরাগী। যাত্রাপথে তিনি মুঠোফোনে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তবে পরদিন সকালেও বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। তার মুঠোফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করে কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এদিকে, ২৫ এপ্রিল সকালে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার আওতাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ। পরে  লাশটি থানায় নেয়া হয়। খবর পেয়ে বুলেট বৈরাগীর পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে লাশটি শনাক্ত করেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা বুলেট বৈরাগীকে হত্যা করে তার সঙ্গে থাকা নগদ টাকা লুট করে নেয়।

এ ঘটনায় নিহতের মা লিলিমা বৈরাগী গত ২৫ এপ্রিল কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

চার্জশিট দাখিলের বিষয়ে লিলিমা বৈরাগী বলেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে।’ 

তিনি চান, যারা তার ছেলেকে হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।