
চট্টগ্রামের পটিয়ায় এবার তিন দিনের ব্যবধানে যৌতুকের কারণে প্রাণ গেল তানিয়া কামাল (২০) নামে ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর।
রোববার দিবাগত মধ্যরাতে ২৬ অক্টোবর উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ চরকানাই মোনাফ হাজির পাড়ায় স্বামীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে একই উপজেলার কুসুমপুরা ইলিয়াস খাঁ মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে ২৩ অক্টোবর বিকেলে পিঠাপুলি কম দেয়ার অজুহাতে নির্যাতনের শিকার সিফাত নুর (২২) নামে আরেক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ তানিয়া কামাল হত্যার ঘটনায় তার স্বামী নুর উদ্দিনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহত তানিয়া কামাল কুসুমপুরা হরিণখাইন গ্রামের মো: কামালের মেয়ে।
নিহত তানিয়া কামালের মামা মনছুর সোমবার বিকেলে নয়াদিগন্তকে বলেন, একে অপরের সাথে দীর্ঘদিনের ভালোবাসার পরে গত ১১ মাস আগে উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোনাফ হাজির পাড়ার কাঞ্চন মিয়ার ছেলে নুর উদ্দিনের সাথে তার বিয়ে হয়।
তিনি জানান, বিয়ের পর থেকে তার ভাগিনির উপর যৌতুকের জন্য নির্যাতন করা হতো। গত ৫ মাস পূর্বে কালারপোল পুলিশ ফাঁড়িতে এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ দেয়ার পরে সালিশ বৈঠকের মধ্য দিয়ে তানিয়া আবার শ্বশুরবাড়িতে যায়। ইতোমধ্যে তানিয়ার ভাইয়ের বিয়ে উপলক্ষে সে বাপের বাড়িতে আসে। ভাইয়ের বিয়েতে সোনার আংটি না দেয়ায় ডেলিভারি না হওয়া পর্যন্ত বাপের বাড়িতে থাকা তানিয়ার সাথে আবার নানাভাবে ঝগড়া-বিবাদ শুরু করে। মাত্র তিন দিন পূর্বে নুর উদ্দিন তার মায়ের অসুস্থতার কথা বলে শ্বশুরবাড়ি থেকে নেওয়ার পরে ২৬ অক্টোবর নির্যাতন করে তার ভাগনিকে মেরে ফেলে। এদিকে পুলিশ খবর পেয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করে।
সোমবার বিকেলে ময়নাতদন্তের পরে তানিয়ার লাশ গ্রামের বাড়িতে আনা হলে শোকের ছায়া নেমে আসে। এরপরে বাদ মাগরিব জানাজা শেষে নিহতের লাশ দাফন করা হয়।
যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি নিশ্চিত করে পটিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) জিয়াউল হক জানান, গৃহবধূর স্বামী নুর উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








