শরণখোলায় লোকালয়ে বাঘ আতঙ্ক, ড্রোন উড়িয়ে বাঘের সন্ধান
শরণখোলার লোকালয়ে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পায় এলাকাবাসী। নয়া দিগন্ত

শরণখোলার লোকালয়ে বাঘ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বনরক্ষীরা ড্রোন উড়িয়ে ধান খেতে বাঘের সন্ধান করছে। রাতের বেলা গ্রামে লোক চলাচল কমে গেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে রবিবার রাতে সুন্দরবন থেকে পূর্ব সোনাতলা গ্রামে বাঘ ঢুকে পড়েছে। গ্রামের ধানক্ষেতসহ বিভিন্ন স্থানে বাঘের পায়ের ছাপ দেখেছে গ্রামবাসীরা। বনরক্ষী, সিপিজি ও ভিটিআরটি সদস্যরা জনগণকে সচেতন করতে মাইকিং শুরু করেছে।

Advertisement

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে বন বিভাগের কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) টিম লিডার মো: খলিল জোমাদ্দার জানান, রোববার সন্ধ্যায় সুন্দরবন সংলগ্ন পূর্ব সোনাতলা গ্রামের সরোয়ার হাওলাদারের বাড়ির সামনে এবং আবু রাজ্জাক আকনের মাছের ঘেরের পাড়ে বিক্ষিপ্তভাবে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পায় এলাকাবাসী। 

তিনি জানান, বিষয়টি তাৎক্ষণিক সুন্দরবন বিভাগ, ভিটিআরটি ও সিপিজি সদস্যদের জানান এলাকাবাসী। খবর পেয়ে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো: শরীফুল ইসলাম বনরক্ষী, সিপিজি ও ভিটিআরটি সদস্যদের নিয়ে পূর্ব সোনাতলা গ্রামে ঘটনাস্থলে বাঘ বিচরণ করে ধান খেতের দিকে চলে যাওয়ার বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পান তারা। 

সোনাতলা গ্রামের সিপিজি সহকারী টিম লিডার মো: সাচ্চু আকন জানান, গ্রামের ধানক্ষেত ও সবজি ক্ষেতের আইলের উপরে বাঘের পায়ের ছাপ দেখে গ্রামবাসীদের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বাঘের ভয়ে রাতের বেলা গ্রামে লোক চলাচল কমে গেছে। সোমবার সকাল থেকে সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা, পানিরঘাট, সোনাতলা, মডেল বাজার ও পূর্ব সোনাতলা গ্রামের প্রায় ১০ কিলোমিটারে এলাকায় জনসাধারণকে সতর্কতার সাথে চলাচলের জন্য মাইকিং করা হয়েছে। 

এর আগে, গত ১৯ অক্টোবর রাতে সুন্দরবন সংলগ্ন পানিরঘাট সোনাতলা এলাকার গ্রামে বাঘ বিচরণ করে সুন্দরবনে ফিরে যাওয়ার চিহ্ন পাওয়া যায়।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো: শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রামে বাঘ আসার খবর পেয়ে সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পূর্ব সোনাতলা গ্রামের ধানক্ষেতের উপরে ড্রোন উড়িয়ে বাঘের সন্ধান করা হয়েছে। কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সুন্দরবনে বাঘ ফিরে যাওয়ার কোনো আলামত দেখা যায়নি।’ 

তিনি বলেন, ‘বাঘ ভোলা নদী সাঁতরে লোকালয়ে চলে আসে। জনসাধারণকে সচেতন করতে এলাকায় মাইকিং এবং বনরক্ষীসহ ভিটিআরটি ও সিপিজি সদস্যদের সার্বক্ষণিক টহলের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’