হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। ফাইল ছবি

সিলেটে থামছে না ডেঙ্গুর প্রকোপ। আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে চলতি ৪০ জন ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছে। এটিই চলতি মৌসুমে এক দিনে আক্রান্তের সর্বোচ্চ রেকর্ড।

Advertisement

এ নিয়ে এ বছর আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮১ জনে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭০ জন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম।

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন শনাক্ত ৪০ জনের মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৫ জন, জালালাবাদ রাগিব-রাবেয়া মেডিক্যালে তিনজন, নর্থ ইস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনজন, বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দু’জন, মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে আটজন ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঁচজন রয়েছেন।

বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি ৭০ জনের মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২৯ জন, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সাতজন, নর্থ ইস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনজন, বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাতজন, মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন, হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে আটজন, ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দু’জন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চারজন ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঁচজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত বিভাগে শনাক্ত ৭৮১ জনের মধ্যে হবিগঞ্জে ৩৩০ জন, সুনামগঞ্জে ১৭৯ জন, সিলেটে ১৭৩ জন মৌলভীবাজারে ৭৩ জন রয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য জেলা থেকে এসে সিলেট বিভাগে চিকিৎসা নিতে গিয়ে আরো ২৬ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

চলতি বছর সিলেট বিভাগে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ ২৫ অক্টোবর সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশু ফারদিন আহমদ (৪)। সে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার বাসিন্দা।

এর আগে গত ১৮ অক্টোবর সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার নেপাল চন্দ্র দাস (৫২)। ১৬ সেপ্টেম্বর জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা ছলিমা বেগম (৬০)।

এছাড়া ৮ সেপ্টেম্বর জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার কৃষ্ণ দাস (৪৫)। চলতি বছরে সর্বপ্রথম ২ আগস্ট সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন আফিয়া খানম (৫৪)।