মহালছড়িতে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা
মহালছড়ি থানার পুলিশ ভুক্তভোগীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠায়। নয়া দিগন্ত

খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে মাহফুজা আক্তার মনি (১৮) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গৃহবধূর স্বামী ও শ্বশুরের দাবি, মাহফুজা আত্মহত্যা করেছে। তবে, ভুক্তভোগী মাহফুজার পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে হত্যা হিসেবে দাবি করা হয়েছে।

Advertisement

রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে উপজেলার মাইসছড়ি ইউনিয়নের নুনছড়ি গুচ্ছগ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মাহফুজা আক্তার মনি উপজেলা সদর ইউনিয়নে মো: মজিবুর রহমানের মেয়ে। 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে মাইসছড়ি ইউনিয়নের নুনছড়ি গুচ্ছগ্রামের মো: নুর আলমের ছেলে মো: সুজনে (২০) সাথে মাহফুজা আক্তার মনির পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের এক বছরের একটি সন্তান রয়েছে।

মাহফুজা আক্তার মনির শ্বশুর মো: নুর আলম জানান, গতকাল রাতে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর তিনি তাদেরকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে মিলিয়ে দেন। রাতে সবাই একসাথে ভাত খাওয়ার পর ঘুমাতে চলে যান, ভোর ৪টায় ঘুম থেকে উঠে বাহিরে গেলে তিনি তার ছেলে সুজনের ঘরের দরজা খোলা দেখে সুজনকে ডাকেন। সুজন ঘুম থেকে উঠে দেখেন, পাশে তার সন্তান থাকলেও স্ত্রী মাহফুজা পাশে নেই। এরপর ডাকাডাকি শুরু করে কোনো সাড়া না পেয়ে বাড়ির একটি খালি ঘরের দরজা বন্ধ থাকতে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। এরপর ওই ঘরের দরজা খুলে মাহফুজার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।

মাহফুজার পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা। তাদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় মাহফুজাকে নির্যাতন করা হতো। সেই নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। 
‎
‎নিহতের মামা মো: সমের আলী বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই আমার ভাগ্নিকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। গতকালও আমার ভাগ্নি ফোন করে মারধরের কথা জানিয়েছিল। তার কথাবার্তায় আমি খুব চিন্তিত হয়ে পড়ি। আজ জানতে পারলাম, তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। আমার ধারণা, তাকে হত্যা করে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে, ঝুলে থাকার বিষয়টি আমরা কেউ দেখিনি। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।’

এ বিষয়ে মহালছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা জহির উদ্দিন জানিয়েছেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে এবং গৃহবধূর মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।