
চট্টগ্রামের পটিয়ায় গ্রামীণ প্রথা অনুযায়ী মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যাওয়া পিঠা কম হওয়ায় মারধরের শিকার ৩ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ সিফাত নূর (২২) চমেক হাসপাতালে ভর্তির ৯ দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিহতের মামা রাজা মিয়া। সিফাত নূর চন্দনাইশ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো: নূরের মেয়ে।
রাজা মিয়া জানান, গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় গ্রামীণ প্রথা অনুযায়ী তার বোন জহিনুর আক্তার পটিয়া কুসুমপুরা ইলিয়াস খাঁ এলাকায় মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে হাতে তৈরি পিঠা নিয়ে যান। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির লোকজন, বিশেষ করে মেয়ের শাশুড়ি রিজিয়া বেগম ও তার মেয়েরা মিলে তর্ক জুড়ে দেন। পরে ওই তর্কের জের ধরে মা জহিনুর আক্তার ও সিফাত নূরকে মারধর করেন। এতে সিফাত নূর গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করার ৯ দিন পর চমেক হাসপাতালে সিফাত নূর মারা যান।
নিহতের মামা রাজা মিয়া জানান, গত প্রায় ৫ মাস আগে ওই বাড়ির মৃত আবদুস সবুরের ছেলে দুবাই প্রবাসী মো: তারেকের (২৬) সঙ্গে পারিবারিকভাবে সিফাত নূরের বিয়ে হয়।
নিহতের মামা আরো জানান, কোরবানির ঈদে গরুর পরিবর্তে ছাগল দেয়া এবং প্রথা অনুযায়ী ফলমূল কম দেয়া নিয়ে মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন খারাপ আচরণ করেন বলে সে জানায়।
এদিকে গতকাল ২৪ অক্টোবর বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের লাশ চন্দনাইশে আনা হলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বাদে মাগরিব জানাজা শেষে সিফাত নূরের লাশ দাফন করা হয়।
এ বিষয়ে পটিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো: জিয়াউল হক বলেন, ‘গত ১৪ অক্টোবর ওই গৃহবধূকে মারধরের একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে জেনেছি। ঘটনার মূল বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








