
সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ:)-এর মাজারে ৩৩ দিনের ব্যবধানে পঞ্চম দফা গণনায় মিলেছে ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা। এছাড়া প্রচুর সোনা-রূপা ও ১৮ দেশের বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে।
মাজারের সিলগালা করা পাঁচটি দানবাক্স ও তিনটি ডেগ খুলে গণনা শেষে ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষে জেলা প্রশাসক (ডিসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় এই তথ্য জানান।
শনিবার সকাল ১০টা থেকে জেলা প্রশাসক (ডিসি), জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ ও মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে দানবাক্স ও ডেগ খোলা হয় এবং দিনভর গণনা করা হয়। সন্ধ্যায় গণনায় প্রাপ্ত টাকার অঙ্ক ও বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব-নিকাশ জনসমক্ষে জানানো হয়।
এর আগে, সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো: সারওয়ার আলমের উদ্যোগে চলতি বছরের ১৮ জুন শাহজালাল মাজারে স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে পুরোনো দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একইসাথে মাজারে দান করা নগদ অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী রাখার ঐতিহাসিক তিনটি ডেগও সিলগালা করা হয়।
এ নিয়ে সিলেটে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে ২১ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে সংযুক্ত করা হয়। পরদিন তার উপস্থিতিতে দানবাক্সের তালা খুলে জনসমক্ষে টাকা গণনা করা হয়।
সারওয়ার আলমের উদ্যোগের পর এ পর্যন্ত (সর্বশেষ আজ শনিবারসহ) পাঁচ দফা মাজারের টাকা প্রকাশ্যে গণনা করা হয়।
গত ২২ জুন প্রথম দফায় পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে পাঁচ লাখ টাকার চেক যুক্ত হলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।
১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এরপর ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় গণনায় পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় দানবাক্স ও ডেগ থেকে পাওয়া যায় ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা। চতুর্থ দফার গণনায় নগদ টাকার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপা পাওয়া যায়।
চতুর্থ দফার গণনা শেষে চলতি বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার দফায় মোট দুই কোটি ২৯ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪০ টাকা পাওয়া যায়। আর আজ শনিবার পাওয়া গেল ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা। সব মিলিয়ে পাঁচ দফায় পাওয়া গেছে তিন কোটি ১৭ লাখ টাকা।
এখনই ‘ভাগ-বাটোয়ারা’ হচ্ছে না শাহজালাল মাজারের টাকা
এদিকে সিলেটের শাহজালাল (রহ:) মাজারের দানবাক্সের টাকার ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজের জন্য সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে জমা রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া বাকি ৬৫ শতাংশ দিয়ে মাজারের দৈনন্দিন খরচ ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে তা এখনই বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে গঠিত কমিটির সভায় এমন একটা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।
শনিবার সকালে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বলেন, আজকে শাহজালাল (রহ:) মাজারের দানবাক্সে পাওয়া টাকা আগের মতোই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখা হবে। এখান থেকে বিদ্যুৎ বিলসহ কিছু ইউটিলিটি বিল দেয়া হবে, আনসারের বেতন দেয়া হবে। আমরা তিনজন লোক নিয়োগ দেবো— ম্যানেজার, অ্যাকাউনটেন্ট ও কম্পিউটার অপরেটর। তখন টাকার ৬৫ শতাংশ দিয়ে মাজারের দৈনন্দিন খরচ ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় ব্যয় করা হবে।
তিনি বলেন, তাদের নিয়োগের পর প্রতিদিন টাকা গণনা করা হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরো মাসখানেক লাগতে পারে। তার আগে আরো একবার আমাদের ব্যবস্থাপনায় টাকা গণনা হতে পারে।
টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, উচ্চ পর্যায়ের কমিটির সবার সাথে আলোচনা করেই শাহজালাল (রহ:) মাজারের দানবাক্সে পাওয়া টাকা বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কারণ মাজার পরিচালনার অনেক খরচ আছে। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
২৩ সেপ্টেম্বর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে গঠিত কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়, শাহজালাল (রহ:) মাজারের দানবাক্সের টাকা এখন থেকে প্রতিদিন গণনা করা হবে। দানের টাকার ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজের জন্য সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে জমা রাখা হবে। আর বাকি ৬৫ শতাংশ দিয়ে মাজারের দৈনন্দিন খরচ ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেয়া হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সভা শেষে সেদিন এসব তথ্য জানান সদস্যসচিব ও সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন।
জেলা প্রশাসক বলেন, দানের টাকার ৩৫ শতাংশ যে ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে, সেটি জেলা প্রশাসক ও মাজারের মোতোয়াল্লির যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হবে। টাকা গণনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মাজারের পক্ষে একজন ব্যবস্থাপক নিয়োগ দেয়া হবে। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা অথবা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা হবেন।
এছাড়া একজন হিসাবরক্ষক ও একজন অফিস সহকারী নিয়োগ দেয়া হবে। মাজার পরিচালনার জন্য সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটি মাজারের নিরাপত্তা, উন্নয়নসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। জেলা প্রশাসক থাকবেন এই কমিটির আহ্বায়ক।
কমিটিতে সিলেট সিটি করপোরেশন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিলেট মহানগর পুলিশ, সিলেট জেলা পরিষদ ও পুলিশ সুপারের একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন। মাজারের মোতোয়াল্লি সদস্যসচিব থাকবেন।
মাজারের দানবাক্সের টাকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্কের পর চলতি বছরের ২৩ জুন আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








