
বিচ ম্যারাথন ও পিঠা উৎসবের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল-২০২৬-এর দ্বিতীয় দিন। জিরো পয়েন্ট থেকে গঙ্গামতি পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার বিচ ম্যারাথনে অংশ নেন দর্শনার্থীরা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোরে অনুষ্ঠিত ওই ম্যারাথনে সাত শতাধিক অংশগ্রহণকারী অংশ নেন। ম্যারাথনের পর অনুষ্ঠিত হয় পিঠা উৎসব।
রাখাইনদের ভিন্ন স্বাদের পিঠা খাওয়ায় অংশ নেন আগতরা। এছাড়া দ্বিতীয় দিনে ভলিবল, সেলিব্রেটি ক্রিকেট ও সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রয়েছে।
আগামিকাল রোববার ভোরে বিচ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শেষ হবে কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল-২০২৬।
এর আগে, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল-২০২৬ ঘিরে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘দেশের তথা কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের লক্ষ্যে এখানে আজ থেকে শুরু হবে দুই দিনের কুয়াকাটা পর্যটন কার্নিভাল-২০২৬। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কুয়াকাটাকে দেশের ও বিদেশী পর্যটকদের কাছে তুলে ধরার পরিকল্পনা করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘পর্যটন করপোরেশন এ উপলক্ষে শুক্রবার ও শনিবার বিভিন্ন ধরনের ইভেন্ট বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। যেখানে ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এখানকার ঐতিহ্যবাহী রাখাইন সম্প্রদায়ের ও দেশ বরেণ্য শিল্পীদের অংশগ্রহণে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। মোট কথা কুয়াকাটার সৌন্দর্য, ঐতিহ্য-ইতিহাস তুলে ধরে ব্যাপক অনুষ্ঠানমালা থাকছে।’
পর্যটনমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকার গেল নয় বছরে কুয়াকাটা নিয়ে কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা কিংবা কার্নিভাল করেনি। একবার করেছিল তা নিয়ে দুর্নীতির অন্তহীন অভিযোগ তখনকার সময়ে গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছিল। তাই বর্তমান বিএনপি সরকার কুয়াকাটার টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।’
গতকাল শুক্রবার রাতে চিত্রনায়িকা পূর্ণিমার স্টেজ শো, চিশতি বাউল ও প্রীতম হাসানের সঙ্গীত, সাদ্দাম মালের কমেডি শো ও দিনভর ঘুড়ি উৎসব, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও বিচ ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে পর্যটন কার্নিভাল ঘিরে কুয়াকাটায় আসা লাখো পর্যটক ও দর্শনার্থী আবাসিক ও খাবার হোটেলের ভাড়া দ্বিগুণ-তিনগুণ বাড়িয়ে দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বহু পর্যটক সোশ্যাল মিডিয়ায় তিক্ত অভিব্যক্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এছাড়া কুয়াকাটা শহর ও আশপাশের পর্যটন স্পটে চলাচল করা অটোবাইক, অটোভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনে দ্বিগুণ/চারগুণ বেশি ভাড়া নেয়া হয়েছে। এ নিয়ে পর্যটকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পাশাপাশি বেশি দাম নিয়ে হোটেলে পচা-বাসি খাবার বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। পর্যটকদের সাথে এ নিয়ে অনেক ব্যবসায়ী খারাপ আচরণ করেছেন। এছাড়া নানা অব্যবস্থাপনা নিয়ে পর্যটকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ঝেরেছেন।
আগতদের অনেকে বলেছেন, আয়োজকরা অতিথি ম্যানেজমেন্টে ব্যস্ত ছিলেন। পর্যটক-দর্শনার্থীদের সেবা নিয়ে সবাই ছিলেন উদাসীন।
ইসমাইল হাসান নামে এক পর্যটক বলেন, আমরা পর্যটকরা এখানকার মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের অতিথি না, শিকারে পরিণত হয়েছি। অনেক দর্শনার্থীকে রাতে সৈকতের পাশে বেলাভূমে রাত কাটাতে দেখা গেছে।
এমনকি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাঠ নির্ধারণ নিয়েও পর্যটকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, লাখো দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ১৫-২০ হাজার মানুষের সংকুলানের মতো একটি মাঠ নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে স্থানীয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠকরা অভিযোগ তুলেছেন, তাদের সাথে পরিকল্পনা করা হয়েছে ঠিকই। কিন্তু বাস্তবায়ন করা হয়েছে আয়োজকদের নিজস্ব পলিসিতে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








