মমেক হাসপাতালের অব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অসন্তোষ, তদন্তের নির্দেশ 
মমেক হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন। নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তে সংবাদ প্রকাশের পর ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন। পরিদর্শনে হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দেখে ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি ময়লার ভাগাড়ে ক্যানুলা, সিরিঞ্জসহ চিকিৎসাসামগ্রী পড়ে থাকার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

Advertisement

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে মমেক হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।

এর আগে, শনিবার (১৭ অক্টোবর) দৈনিক নয়া দিগন্তে ‘মমেকের চিকিৎসাসামগ্রী ময়লার গুদামে, রোগীদের কিনতে হয় বাইরে থেকে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। হাসপাতালে ব্যবহারের উপযোগী চিকিৎসাসামগ্রী ময়লার গুদামে পড়ে থাকা এবং রোগীদের বাইরে থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে বাধ্য হওয়ার বিষয়টি প্রতিবেদনে উঠে আসে।

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ড, হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড ও ডেঙ্গু ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। রোগীদের চিকিৎসাসেবা, ওয়ার্ডের পরিবেশ ও ওয়াশরুমের পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও খোঁজ নেন তিনি। হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচতলায় ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

এছাড়া, হাসপাতালের ব্যবহৃত ক্যানুলা, সিরিঞ্জসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী ময়লার ভাগাড়ে পড়ে থাকার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে মন্ত্রী দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন। এসব সামগ্রী কীভাবে সেখানে গেল, এর পেছনে কারো দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন তিনি।

এ সময় চিকিৎসক, নার্সসহ হাসপাতালের কর্মীদের সময়মতো কর্মস্থলে উপস্থিত না হওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। দায়িত্ব পালনে অবহেলার প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের এক রোগীকে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনে আনতে পাঠানোর কারণ জানতে চান। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি মন্ত্রী ওই রোগীকে স্যালাইন কেনার জন্য এক হাজার টাকা সহায়তা দেন।

হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের এক মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেয়ার বিষয়টিও মন্ত্রী গুরুত্বসহকারে তুলে ধরেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছুটির কারণে প্রতিবেদন দিতে দেরি হয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়।

এর আগে, সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শন করেন। এ সময় উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে দেশের স্বাস্থ্য খাতে বড় পরিসরে টেন্ডার আহ্বান করা হবে। এ খাতে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার টেন্ডার হবে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী জানান, দেশে ক্যানসার চিকিৎসার জন্য রেডিওথেরাপি মেশিন সরবরাহ, পাঁচটি রোবটিক সার্জারি ব্যবস্থা স্থাপন এবং পাঁচ হাজার নার্স নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া মিডওয়াইফ নিয়োগের মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রসবের হার বাড়ানো এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তিনি জানান, পুরোনো কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি ওয়েলবিং সেন্টারে রূপান্তর করে, সেখানে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের উদ্যোগ নেয়া হবে।

পরিদর্শনকালে মমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন তালুকদার, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা: প্রদীপ কুমার সাহা, জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান ও জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।