স্থানীয় সরকার নির্বাচনবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা
স্থানীয় সরকার নির্বাচনবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা। নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলার উদ্যোগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Advertisement

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সাভারের মাস্টার কমিউনিটি সেন্টার মিলনায়তনে দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী ও পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব-কর্তব্য, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা, নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং প্রচার ও ডিজিটাল ক্যাম্পেইন কৌশল নিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এতে বিভিন্ন পর্যায়ের উপজেলা ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী, পরিচালক ও সচিবগণ অংশ নেন।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো: আব্দুর রব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সংগঠনের নেতা হওয়ার পাশাপাশি জনগণের নেতাও হতে হবে। আর জনগণের নেতা হতে হলে জনগণের কাছে যেতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘জনগণের সমর্থন একটি আমানত। এই আমানতের যথাযথ হেফাজত করতে হবে এবং জনগণের সেবা করার মাধ্যমে জননেতা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আন্দোলন ও নির্বাচনকে পরস্পরবিরোধী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ইতিবাচক পরিবর্তন ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নির্বাচনী কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনগণের সাথে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে, তাদের সুখ-দুঃখ ও সমস্যার খোঁজ নিতে হবে এবং সারাবছর মানুষের পাশে থাকতে হবে। জনগণ যেন দায়িত্বশীলদের ওপর আস্থা রাখতে পারে, সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে।’

পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নিসার ৫৮ নম্বর আয়াতের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধান অতিথি আব্দুর রব বলেন, ‘আমানত যথাযথভাবে হকদারের কাছে পৌঁছে দেয়া এবং মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা প্রত্যেক দায়িত্বশীলের কর্তব্য। জনগণের সমর্থনকে ব্যক্তিগত মর্যাদা বা ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে না দেখে জনগণের সেবা করার সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।’

নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি জনগণ, জনমত, জননেতৃত্ব ও প্রশাসনের সাথে আইনসম্মত যোগাযোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, এলাকার মানুষের মনোভাব বোঝা, জনমত সম্পর্কে ধারণা নেয়া, গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করা এবং নির্বাচনসংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্মকর্তাদের সাথে নিয়মতান্ত্রিক যোগাযোগ বজায় রাখা প্রয়োজন। একইসাথে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত সততা, আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

কর্মশালার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে দারস পেশ করেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ঢাকা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রউফ।

উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ঢাকা জেলা আমির মাওলানা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন বলেন, ‘প্রার্থী নির্বাচনে সংগঠনের সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হবে এবং ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রাখতে হবে। সংগঠনের দীর্ঘদিনের জনশক্তিকে অবহেলা করা যাবে না। পাশাপাশি জনগণের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে— এমন ব্যক্তিদেরও যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনে অবৈধ অর্থের প্রভাব বা পেশিশক্তির পরিবর্তে জনসমর্থন, সাংগঠনিক দক্ষতা, সততা ও মানুষের আস্থাকে শক্তির ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মো: আফজাল হোসাইন বলেন, ‘জনগণের সেবক হিসেবে আমাদের প্রত্যেককে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সমাজের সকল স্তরে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য সার্বক্ষণিক চেষ্টা করতে হবে।’

কর্মশালার প্রথম সেশনে ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী ও পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব-কর্তব্য’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন কেন্দ্রীয় ট্রেইনার রাকিবুল ইসলাম খান। দ্বিতীয় সেশনে ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা : স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রস্তুতি ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা পরিচালনা করেন জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও মাস্টার ট্রেইনার অধ্যক্ষ মো: তৌহিদ হোসেন ও অ্যাডভোকেট মীর আতাউর রহমান।

তৃতীয় সেশনে ‘নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা এবং নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন কেন্দ্রীয় ট্রেইনার রাকিবুল ইসলাম খান। পরবর্তী সেশনে ‘নির্বাচনী প্রচার ও ডিজিটাল ক্যাম্পেইন : কৌশল, ভোটার সংযোগ ও করণীয়’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন কেন্দ্রীয় ট্রেইনার রকিবুজ্জামান রুমান।

কর্মশালার শেষ পর্যায়ে ফিডব্যাক ও উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা নির্বাচনী প্রস্তুতি, ভোটারদের সাথে কার্যকর যোগাযোগ এবং প্রচার কার্যক্রমকে আরো সুসংগঠিত করার বিষয়ে নিজেদের মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা এ বি এম কামাল হোসাইন ও উপাধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাত হোসাইন, রাজনৈতিক সম্পাদক হাসান মাহবুব মাস্টার, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো: শহিদুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক কবিরুজ্জামান।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মো: শাহীনুর ইসলাম। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দায়িত্বশীলদের দক্ষতা বৃদ্ধি, পরিকল্পিত নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং ভোটারদের সাথে কার্যকর যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার ওপর এ কর্মশালায় গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।