
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এখনো ভালো লক্ষণ দেখছি না। বিএনপির একজন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাডারকে নির্বাচন কমিশনের এডিশনাল সেক্রেটারি হিসেবে বসানো হয়েছে। একজন দলীয় লোককে কেন আনতে হবে এখানে। জাতীয় সংসদের চীফ হুইফ যিনি জাতীয় সংসদের শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকেন তিনি তার এলাকায় গিয়ে বলেছেন, যে জায়গায় বিএনপি’র প্রার্থী বিজয়ী হবে না সেখানে কোনো বরদ্দ দেয়া হবে না। এটা লজ্জার বিষয়। তার মানে আগ থেকে জনগণকে ভয় দেখানো হচ্ছে। এমন ভয়ভীতি এবং দলভীতির মধ্য দিয়ে নির্বাচন হলে নির্বাচন সুষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’
তিনি বলেছেন, ‘তবে হ্যাঁ নির্বাচনের আগে আমরা অবশ্যই রাস্তা পরিষ্কার করার চেষ্টা করবো। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত আমরা চাইবো। যখন সেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের নিশ্চিয়তা পাবো তখন নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করব। আমরা কারো স্কীপ গুড হতে চাই না। আমরা জনগণের অধিকার নিয়ে লড়তে চাই। আমরা চাই জনগণ যাকে ভোট দিয়ে পছন্দ করবে সেই ক্ষমতায় যাবে।’
শনিবার বেলা ১১টায় মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে মুন হল রুমে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা জামায়াত আমির ইঞ্জিনিয়ার মো: শাহেদ আলীর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মো: ইয়ামীর আমির আলীর উপস্থাপনায় এতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমদ।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা সৌভাগ্যক্রমে একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পেয়েছি। তিনি সকল মন্ত্রণালয়ে সার্ভিস দেন। তার প্রাইম ডিউটি হচ্ছে নিজের মন্ত্রণালয় লোক আফটার করা। না তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করেলন, না তিনি সমাজে শৃঙ্খলা ফিরাতে পারলেন। দৃশ্যমান কোনো উন্নতি নেই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব যারাই পালন করেন এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বলেন, আইনশৃঙ্খলা আগের চেয়ে ভালো। এই আগের চেয়ে ভালো মাপকাঠি কি তা আজ পর্যন্ত বুঝতে পারলাম না।’
তিনি বলেন, ‘সংবাদপত্র সমাজের আয়না। তাদের আয়নায় সমাজের দোষ ত্রুটি ধরা পড়ে। স্বাধীনতার পর সময়ে ১৯৭৫ সালে সংবাদ মাধ্যমের উপর আক্রমণ হয়েছিল। রাজনীতির উপর আঘাত এসেছিল। বহুদলীয় গণতন্ত্র বাদ দিয়ে এক দলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েমের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সবগুলো সংবাদমাধ্যম সরকার তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রনে নিয়েছিল। চারটি সংবাদমাধ্যম ছাড়া আর কোনো সংবাদ মাধ্যমের অস্তিত রাখা হয়নি।’
এর আগে, সকালে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজে এসে পৌঁছলে জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে অভ্যর্থনা জানান জেলা আমির ইঞ্জিনিয়ার মো: শাহেদ আলী, হবিগঞ্জ জেলা আমির মাওলানা কাজী মখলিছুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলা সেক্রেটারি মো: ইয়ামীর আলী, হবিগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমদ, ছাত্রশিবির জেলা সভাপতি ফরিদ উদ্দিন প্রমুখ।
পরে পুলিশের একটি চৌকস দল আমিরে জামায়াতকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ জেলা শহরে এটাই তার প্রথম সফর। জামায়াত আমিরের সফর ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মীর মধ্যে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয়।
এর আগে জামায়াত আমির সকাল ৮টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগরী আমির মো: ফখরুল ইসলাম, মৌলভীবাজার জেলা আমির ইঞ্জিনিয়ার মো: শাহেদ আলী, সিলেট মহানগরী নায়েবে আমির ড: নুরুল ইসলাম বাবুল, সিলেট জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, সিলেট মহানগরী সেক্রেটারি মো: শাহজাহান আলী, সিলেট জেলা সেক্রেটারি মো: জয়নাল আবেদীন, মৌলভীবাজার জেলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আজিজ আহমদ কিবরিয়া, ছাত্রশিবিরের মৌলভীবাজার শহর সভাপতি কাজী দাইয়ান আহমদ।
জামায়াত আমির মতবিনিময় শেষে জেলা জামায়াত আয়োজিত ওয়ার্ড দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। বিকেলে তিনি রোকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








