উজিরপুর মডেল থানা, যুবদল, পুলিশ হেফাজত, মাইক্রোবাস, নিহত
উজিরপুর মডেল থানা। নয়া দিগন্ত

বরিশালের উজিরপুরে পূর্ববিরোধের জেরে কাওসার হাওলাদার (৩২) নামে এক সাবেক যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের লোগোযুক্ত মাইক্রোবাস থেকে নয়জনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

Advertisement

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের পশ্চিম সাতলা এলাকায় শাহ আলমের চায়ের দোকানের উত্তর পাশে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত কাওসার উপজেলার আলমদী গ্রামের মোনাফসের হাওলাদারের ছেলে। তিনি সাতলা ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য ছিলেন।

পুলিশ হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরা হলেন মো: সজল মোল্লা (৩৮), মো: শামীম মোল্লা (৩৬), মো: তারিকুল ইসলাম (৩০), সোহাগ হোসেন (৩০), সাগর শেখ (২৬), মো: হাসিব শেখ (৩০), হাবিব শেখ (১৮), মো: মাহবুবুর রহমান (৫০) ও মো: শরিফ হোসাইন (৩০)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলমদী এলাকার আশিকুল হাওলাদার, কাওসার হাওলাদার ও রাশেদ আমিন হাওলাদারসহ কয়েকজন সজল মোল্লাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার জেরে সজলের ভাই সৌদিপ্রবাসী ইকবাল হোসেন নান্না ফেসবুকে প্রতিশোধমূলক ও উসকানিমূলক স্ট্যাটাস দেন বলে অভিযোগ ওঠে। গত বুধবার তিনি সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন।

শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে একতা বাজার এলাকায় আগের বিরোধের জেরে আশিকুল, কাওসার ও রাশেদের বিরুদ্ধে ইকবাল ও তার ছেলে সাজিদ মোল্লাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর দুপক্ষের বিরোধ আরো তীব্র হয়।

স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, এ ঘটনার খবর পেয়ে সজল ও শামীম একটি মাইক্রোবাসে করে ঢাকা থেকে উজিরপুরের উদ্দেশে রওনা হন। পরে পশ্চিম সাতলায় শাহ আলমের চায়ের দোকানের উত্তর পাশে কাওসারকে পেয়ে সজল ও শামীমসহ তাদের সাথে থাকা ব্যক্তিরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। স্থানীয় লোকজন কাওসারকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর একটি বেসরকারি টেলিভিশনের লোগোযুক্ত একটি মাইক্রোবাস করে পালানোর সময় নয়জনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। 

উজিরপুর মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।’