
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, ‘দেশ ও জাতির কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা পূরণে জামায়াতের সব পর্যায়ের জনশক্তিকে কাজ করে যেতে হবে। জামায়াত আর্তমানবতার কল্যাণ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি বাংলাদেশে ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং সব পর্যায়ে আমানতদারিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায়।’
তিনি বলেন, ‘জামায়াত একটি নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক সংগঠন। রুকনদের প্রত্যক্ষ ভোটে সিলেট মহানগরের নতুন আমির নির্বাচিত হবেন।’
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সিলেট নগরীর এম সাইফুর রহমান অডিটরিয়ামে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত আমির নির্বাচন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, ‘সংগঠনের সব পর্যায়ে এভাবেই দায়িত্বশীল নির্বাচন করা হয়। দায়িত্বশীলদের জবাবদিহির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামী আন্দোলনের শিক্ষা হলো দায়িত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে জবাবদিহির ভয় ও দায়বদ্ধতা উপলব্ধি করা। জামায়াতের শীর্ষ নেতারা হাসিমুখে শাহাদত বেছে নিয়েছেন, জালিমদের সাথে আপস করেননি। তাই ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘সংগঠনের দায়িত্ব পাওয়া কোনো পদমর্যাদার বিষয় নয়; বরং এটি একটি আমানত। এই দায়িত্ব পালনে ব্যক্তিগত স্বার্থ, আরাম-আয়েশ ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে। প্রতিটি দায়িত্বশীলকে নিজের কাজের হিসাব দেয়ার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। ত্যাগ ও নিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি সংগঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে দায়িত্বশীলদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দৃঢ়তা নিয়ে কাজ করতে হবে।’
সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ও আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী ড. নূরুল ইসলাম বাবুলের সভাপতিত্বে ও মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের কেন্দ্রীয় পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল্লাহ মানসুর, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান ও সিলেট অঞ্চল টিমের সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন।
সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মহানগর নায়েবে আমির হাফিজ মিফতাহুদ্দীন, সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব, জাহেদুর রহমান চৌধুরী, মাওলানা ইসলাম উদ্দিন প্রমুখ।
সম্মেলনে বক্তারা বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে সংগঠনের প্রার্থীদের পক্ষে কার্যকর ভূমিকা রাখতে আগেভাগেই সুপরিকল্পিত কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। এলাকার মানুষের চাহিদা, সমস্যা ও প্রত্যাশা বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম সাজাতে হবে।
প্রার্থীদের যোগ্যতা, দক্ষতা, সততা ও জনসম্পৃক্ততা তুলে ধরার পাশাপাশি কর্মীদের মধ্যে সমন্বয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ বাড়াতে হবে। জনগণের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ, ঘরে ঘরে মতবিনিময় ও স্থানীয় সমস্যা সমাধানে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা উপস্থাপনের মাধ্যমে মানুষের আস্থা ও জনসমর্থন অর্জনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।
সম্মেলনে সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের রুকনরা অংশ নেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








