
নদীমাতৃক দেশ বাংলাদেশ। বিল-ঝিল, হাওর-বাওড় আর সুজলা, সুফলা, ষড়ঋতুর বর্ষা শেষে গ্রাম বাংলার জলাশয়ে শুরু হয় দেশীয় মাছ ধরার উৎসব। তবে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ দ্রুত বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাবে কৃষি জমি ও দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক জলাশয় আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে। ফলে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম-বাংলার দেশীয় মাছ ধরার এসব উৎসব। মাছ ধরার চিরায়ত দৃশ্য এখন সচরাচর চোখে পড়ে না।
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে হঠাৎ চোখে পড়ে দেশীয় মাছ এমন এক দৃশ্য। বুধবার (২১ অক্টোবর) উপজেলার ধলাপাড়া ইউনিয়নের চাপড়া বিলে তিন কিশোরকে দেখা যায় বিলের ছোট অংশ সেঁচে দেশীয় মাছ ধরায় ব্যস্ত রয়েছে। সারা শরীরে কাঁদা মাটি মেখে আনন্দের সাথে মাছ ধরছে তারা।
রবিন নামের এক কিশোর জানায়, তারা শোল, টাকি, পুঁটি, খলশে, কৈ, মাগুর, শিং, ট্যাংরা, পুঁটিসহ ভিন্ন প্রজাতির নানা মাছ ধরেছে।
স্থানীয়রা জানান, কার্তিক মাসের হালকা শীত আর প্রখর রোদে নদ-নদীর পানি, খাল-নালা ও নিচু জমির পানি শুকিয়ে যেতে থাকে। ডুবে থাকা ডোবা, নালা, খাল বিলের পানি শুকিয়ে গেলে এসব স্থানে আটকা পড়ে নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ। সে সময় কাঁদা পানিতে নেমে হাত দিয়ে মাছ শিকার করে গ্রাম-বাংলার মানুষ।
তীব্র রোদে হাঁটু পর্যন্ত কাঁদা পানিতে মাছ ধরা গ্রাম বাংলার অন্যতম বিনোদনও বটে। তবে মাছ ধরার এমন দৃশ্য এখন আর চোখে পড়ে না। তাছাড়া প্রতিনিয়ত আবাসিক এলাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা খাল, বিল, পুকুর এবং ডোবা ভরাট করা হচ্ছে। কলকারখানার বর্জ্য ও কৃষিতে ব্যবহৃত অতিরিক্ত কীটনাশক বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে জলাশয়ে মেশার ফলে মাছের বাসস্থান বিষাক্ত হয়ে ওঠছে। এর ফলে বহু সুস্বাদু দেশীয় মাছ আজ বিলুপ্তির পথে।
স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ কারেন্ট জাল বন্ধের পাশাপাশি প্রশাসনের উচিত মৃতপ্রায় খালগুলো রক্ষা করা।
ঘাটাইল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: আশাদুজ্জামান শামস বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন, প্রজনন মৌসুমে নির্বিচারে মা মাছ শিকার ও নিষিদ্ধ জালের অবাধ ব্যবহারের কারণে দেশীয় মাছ আজ বিলুপ্তির পথে। তবে কেবল আইনি প্রয়োগ নয়, মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের সচেতনতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।’
পরিবেশ ও জলাশয় দূষণমুক্ত রেখে দেশীয় মাছ বাঁচাতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








