সংবর্ধনা, মসজিদ, ইমাম, নামাজ, খতিব
ইমাম মাওলানা মহিউদ্দিনকে রাজকীয় সংবর্ধনার মাধ্যমে বিদায় জানানো হয়েছে। নয়া দিগন্ত

এক মসজিদে টানা ২৭ বছর ইমামতি ও খতিবের দায়িত্ব পালন। এ দীর্ঘ সময়ে শুধু নামাজ পড়ানো নয়, গ্রামবাসীর সাথে গড়ে ওঠেছে আত্মিক সম্পর্ক। তাই বিদায়বেলায় এলাকাবাসীর ছিল ভিন্ন আয়োজন। রাজকীয় সংবর্ধনার মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের ফুলবাড়িয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের বিদায়ী ইমাম ও খতিব মাওলানা মহিউদ্দিনকে বিদায় জানালেন এলাকাবাসী। 

Advertisement

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ফুলবাড়িয়া গ্রামবাসী ও প্রবাসীদের উদ্যোগে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফুলবাড়িয়া মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা শফিকুল ইসলাম ও সঞ্চালনা করেন মাওলানা আলামিন সরকার।

এ সময় বক্তারা বলেন, ২৭ বছর ধরে মাওলানা মহিউদ্দিন ফুলবাড়িয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মুসল্লিদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে তিনি সবার হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। তার দীর্ঘদিনের খেদমতের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবেই এ আয়োজন।

অনুষ্ঠানে মাওলানা মহিউদ্দিনকে ১৯৯৯ সালে ফুলবাড়িয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেয়া মরহুম হাফেজ আলী হোসেনের অবদানের কথাও স্মরণ করা হয়। পরে মরহুম হাফেজ আলী হোসেন, মাওলানা মহিউদ্দিন ও শহিদুল হক সাহেবের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় জামিয়া ইসলামিয়া নুরুল উলুম ফুলবাড়িয়া মাদরাসা।

বিদায়ী বক্তব্যে আবেগাপ্লুত মাওলানা মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমি দীর্ঘ সময় এ এলাকায় কাটিয়েছি। সবার ঘরে খাবার খেয়েছি।’ 

এ সময় তিনি এলাকাবাসীর সাথে গড়ে ওঠা আত্মিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। সংবর্ধনার আয়োজন করায় প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি জানান, অধিকাংশ প্রবাসীই তার ছাত্র। তিনি প্রবাসী, এলাকাবাসী ও মুসল্লিদের জন্য দোয়া করেন। দীর্ঘ পথচলায় তার আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে সবার কাছে ক্ষমাও প্রার্থনা করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ফুলবাড়িয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সেক্রেটারি মো: হারুনুর রশীদ মাস্টার, আয়োজক কমিটির কোষাধ্যক্ষ পাবেল সরকার, পত্তন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম মেম্বার ও উপজেলা বিএনপির সদস্য মানিক সরকারসহ অন্যরা।

অনুষ্ঠান শেষে মাওলানা মহিউদ্দিনের হাতে সম্মাননা স্মারক ও নগদ তিন লাখ টাকা তুলে দেয়া হয়। তার ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ কামনা করেন উপস্থিত ব্যক্তিরা।