
ঢাকার ধামরাইয়ে নিদারুণ কষ্টে থাকা হানেছ আলী (৮৯) ও সুফিয়া (৭৯) দম্পতির পাশে দাঁড়ালেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) জাতীয় পত্রিকায় ‘অশীতিপর দম্পতির দিন কাটে খাবারের চিন্তায়’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপর বুধবার স্থানীয় এমপি তমিজ উদ্দিন এবং ইউএনও মো: আল মামুন উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের দুনীগ্রামে ওই অসহায় দম্পতির বাড়িতে যান।
এ সময় তারা দম্পতির হাতে এক মাসের খাদ্যসামগ্রী ও নগদ টাকা তুলে দেন। পরে ওই অশীতিপর দম্পতির একমাত্র নাতি আশিকুর রহমানকে (২১) একটি অটো ভ্যানগাড়ি দেয়া হয়।
ইউএনও আল মামুন বলেন, ‘সামাজিক মাধ্যমসহ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর অসহায় পরিবারের বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। পরে আমি স্থানীয় সংসদ সদস্যের সাথে ওই অসহায় দম্পতির বাড়িতে যাই। তাদের এক মাসের খাদ্যসামগ্রী (চাল, ডাল, তেল, লবণ, মসলা) দেয়া হয়। তাদের কষ্টের জীবন দেখে আমাদেরও কষ্ট লেগেছে। আমরা খুব শিগগির তাদের জন্য নতুন ঘর নির্মাণসহ বিদ্যুৎ ও টয়লেটের ব্যবস্থা করে দেবো।’
তিনি আরো বলেন, ‘ভিক্ষুক পুনর্বাসনের আওতায় বৃদ্ধ ওই দম্পতির একমাত্র অবলম্বন নাতি আশিকুর রহমানকে জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি নতুন অটো ভ্যানগাড়ি দেয়া হয়েছে। পরে তার চাকরিরও ব্যবস্থা করা হবে।’
ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনের সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন বলেন, ‘সাংবাদিকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে এ অসহায় দম্পতির পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ হয়েছে। শুধু উন্নয়ন নয়, একটি পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো এবং তাদের সুখে রাখাই আমাদের বড় অর্জন। এই অসহায় পরিবারটির জন্য আমরা সব রকম সহায়তা করে যাব।’
বৃদ্ধ দম্পতির নাতি আশিকুর রহমান বলেন, ‘আমার চার বছর বয়সে মা-বাবা মারা গেছেন। এরপর আমার বয়স্ক দাদা-দাদি ভিক্ষা করে আমাকে এইচএসসি পাস করিয়েছেন। ভাঙা ঘরে থাকি। বিদ্যুৎ নেই, টয়লেটও নেই। অন্যের বাড়ির টয়লেট ব্যবহার করি। আমি রাজমিস্ত্রির সহকারীর কাজ করে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। এখন আমার দাদা-দাদি চোখেও কম দেখেন। এমন সময় এমপি ও ইউএনও স্যার আমাদের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে অনেক উপকার করেছেন। আমি তাদের জন্য প্রাণ খুলে দোয়া করি।’
প্রায় ১৭ বছর আগে একে একে দুই ছেলেরই মৃত্যু হয় হানেছ আলী ও সুফিয়া আক্তার দম্পতির। এরপর মারা যান বড় ছেলের স্ত্রী। ভিক্ষা করে সংসার চালানোর পাশাপাশি একমাত্র নাতি আশিকুর রহমানকে লালন-পালন করেন তারা। এইচএসসি পাস করে সেই নাতি এখন রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। তার সামান্য আয়ে তিনজনের সংসার চলে না। রোগে-শোকে অশীতিপর দম্পতির দিন কাটে তিন বেলা খাবারের দুশ্চিন্তায়। বাঁশ ও পাটখড়ির ভাঙাচোরা বেড়ার ঘরে নেই বিদ্যুৎ, নলকূপ ও শৌচাগারের ব্যবস্থা। যেতে হয় পাশের বাড়ির টয়লেটে। রাত হলে বৃদ্ধ দম্পতির পক্ষে সেটিও সম্ভব হয় না।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








