তারেক রহমান খুলনা সফর, নলিয়ানে প্রধানমন্ত্রীর আগমন, নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ, মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ, সুন্দরবন হিরণ পয়েন্ট, সম্ভাব্য এলএনজি টার্মিনাল
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিরাপত্তায় সতর্ক পুলিশ-পিজিআর সদস্যরা। সংগৃহীত

খুলনা দাকোপ উপজেলার দুর্গম উপকূলীয় জনপদ নলিয়ানে আজ সকাল থেকেই মানুষের ভীড়। কারো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একনজর দেখার আগ্রহ আর কেউ কেউ দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ঘুচবে বলে আশা করেন। নদীভাঙন, সুপেয় পানির সঙ্কট, দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা আর অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় জর্জরিত এ জনপদের মানুষ প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত হিসেবে বিবেচনা করতে চান। তাই তাকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ যেমন রয়েছে, পাশাপাশি রয়েছে নিরাপত্তার কড়াকড়ি।

Advertisement

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর বাগেরহাটের মোংলা সফর উপলক্ষে নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশের এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন পুলিশ, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর), নৌ-বাহিনী, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

প্রধানমন্ত্রীর অবতরণের সম্ভাব্য স্থান নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশিও চালানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নলিয়ান বাজারের পশ্চিম প্রান্তের পাকা সড়ক থেকে পূর্ব দিকে কোস্টগার্ড কার্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে ইট বিছিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। পাশাপাশি নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রস্তুত করা হয়েছে হেলিপ্যাড।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, সকালে হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শনের পর নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণের কথা রয়েছে তার। সেখান থেকে নৌ-পথে মোংলার নৌ-ঘাঁটিতে যাবেন তিনি। পরে সভায় অংশ নেয়া, মোংলা বন্দরের জেটি ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে।

এদিকে, সুন্দরবন এলাকায় সম্ভাব্য ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল স্থাপনের স্থান পরিদর্শন নিয়েও আলোচনা রয়েছে। মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা ও সম্ভাব্য এলএনজি টার্মিনাল ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

তবে স্থানীয়দের মতে, অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে দুর্গম এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, সুপেয় পানির সঙ্কট নিরসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি। পর্যটনের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এসব সীমাবদ্ধতায় এলাকাটি পিছিয়ে রয়েছে।