
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সন্ধ্যার পর প্রায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে ৯ জন পুরুষ ও ২ জন নারীকে শেয়াল কামড়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) উপজেলার পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে এই ঘটনা ঘটে। এতে করে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আক্রান্তরা হলেন—পৌরসভার ঘোরলাজ মহল্লার সামছুলের ছেলে স্বাধীন আলী (২৭), মসলেম আলীর ছেলে আসলাম উদ্দিন (৪৭), নওশেরা মহল্লার মরহুম মতিউর রহমান খান লালার ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান খান মিঠু (৫০), বারইপাড়া মহল্লার লাটু সরকারের ছেলে মাইনুল (৫০), সোনাপাতিল মহল্লার মরহুম ইয়াসিন সরকারের ছেলে আকরামুল সরকার ঝড়ু (৫২), মরহুম নিজাম আলীর মেয়ে নাজনিন আক্তার (৪২) ও চেরান আলীর শাশুড়ি রিজিয়া বেগম (৫০), পেড়াবাড়িয়া (পূর্ব সোনাপাতিল) মহল্লার মরহুম আবেদ আলীর ছেলে ইমরান হোসেন (৪২), এছাড়া উত্তর মুরাদপুর মহল্লার পলি খাতুন (১৮) নামের এক কিশোরী।
এছাড়াও আক্তার হোসেন (৬২) ও বাঁধন আলী (১৮) নামের এক কিশোর রয়েছেন। এদের সকলেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
আক্রান্ত ব্যক্তিদের কয়েকজন জানান, বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর কিংবা বাড়ির সামনের রাস্তায় চলাচলের সময় তারা শেয়ালের আক্রমণের শিকার হন। হঠাৎ শেয়াল এসে তাদের পায়ে কামড় দিয়ে পালিয়ে যায়। একের পর এক এমন ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উদ্বেগ দেখা দেয়।
প্রশাসনের নিকট স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার মাধ্যমে বাসিন্দাদের মধ্যে বিরাজ করা আতঙ্ক ও উদ্বেগ দূর করতে হবে।
মুরাদপুর এলাকার পলি খাতুন বলেন, সন্ধ্যার কিছু পরে উপজেলা চত্বরে থাকা হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পথে শেয়ালের কামড়ের শিকার হন তিনি। পরবর্তীতে হাসপাতালে এসে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
পৌর এলাকার পেড়াবাড়িয়া মহল্লার ইমরান আলী বলেন, বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রায় ৫০ গজ দূরে যাওয়ার পর হঠাৎ একটি শেয়াল তার ডান পায়ে কামড় দিয়ে পালিয়ে যায়। আকস্মিক এ ঘটনায় তিনি হতভম্ব হয়ে পড়েন।
সোনাপাতিল মহল্লার আকরামুল হক জানান, তিনি বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির গেটে পৌঁছানোর পর একটি শেয়াল এসে তার পায়ে কামড় দিয়ে চলে যায়।
এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: শামুন আল হাসান সৌমিক জানান, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে শেয়ালের কামড়ে প্রথম রোগী হাসপাতালে আসেন। এরপর একে একে আরও কয়েকজন চিকিৎসা নিতে আসেন। প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে মোট ১১ জন শেয়ালের কামড়ের রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
চিকিৎসক আরো জানান, শেয়ালের কামড়ের শিকার হলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ক্ষতস্থান সাবান ও চলমান পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে হবে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভ্যাকসিন মজুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শামসুল ইসলাম বলেন, ‘শেয়ালের আক্রমণে আহত হওয়ার বিষয়টি তিনি জেনেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তিনি দেখবেন বলে জানান।
তাছাড়াও স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি সন্ধ্যার পর চলাচলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা আর যেন না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বন বিভাগ ও প্রাণিসম্পদসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে বলে জানান।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








