
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় এক রাতের ব্যবধানে পৃথক দু’টি সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত ও ৪০ জন আহত হন। এর আগে, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হন।
বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৪
বুধবার দুপুর ২টার দিকে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের আঠারোমাইল ডাঙ্গীর পার নামক স্থানে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত খর্ণিয়া (চুকনগর) হাইওয়ে থানা পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, দুপুর ২টার দিকে খুলনা থেকে সাতক্ষীরা অভিমুখে বেপরোয়া গতিতে যাচ্ছিল একটি বাস। বাসটি খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের আঠারোমাইল ডাঙ্গীরপার নামক স্থানে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ক্রাউন সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এতে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের খাদে পড়ে যায় এবং ট্রাকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনায় ৪০-৪২ জন যাত্রী আহত হন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে মুন্সিগঞ্জ জেলার জিন্নাত আলী (৩৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু নিশ্চিত করেছে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। এছাড়া খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অব্স্থায় দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকের চালক মারা গেছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র বলছে, খাদে পড়ে যাওয়া বাসের নিচ থেকে আরো দু’টি লাশ উদ্ধার করেছে ডুমুরিয়া ফায়ার সার্ভিস। এতে এ পর্যন্ত দুর্ঘটনায় মোট চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত খাদে পড়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধারের কাজ চলছিল।
খর্ণিয়া (চুকনগর) হাইওয়ে থানার ইনচার্জ এসআই মুন্সী পারভেজ হাসান বলেন, এ পর্যন্ত চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। অন্য একজন ট্রাকচালক ও বাকি দু’জন এখনো অজ্ঞাত। তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আমরা এখনো ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজে ব্যস্ত আছি।
বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ
এর আগে, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবক নিহত হন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে একটি মোটরসাইকেলে দু’জন যুবক আঠারোমাইল বাজারের পাইকগাছা রোড থেকে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে উঠছিলেন। তারা স্থানীয় কামরুলের মিষ্টির দোকানের সামনে পৌঁছামাত্রই ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সাতক্ষীরাগামী ইমাদ পরিবহনের একটি বেপরোয়া গতির বাস তাদের সজোরে ধাক্কা দেয়।
এতে মোটরসাইকেল আরোহী দু’জনই মহাসড়কের উপর ছিটকে পড়েন এবং তাদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয়। এছাড়া তাদের মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত দুই যুবক হলেন— উপজেলার নরনিয়া গ্রামের মরহুম আব্দুল বারী গাজীর ছেলে রফিউর রহমান রউফ (৪৩) ও একই গ্রামের আব্দুল মালেক সরদারের ছেলে ইউনুস আলী (২৫)।
এ বিষয়ে খর্ণিয়া (চুকনগর) হাইওয়ে থানার ইনচার্জ এসআই মুন্সী পারভেজ হাসান বলেন, ঘাতক বাসটিকে আটক করে পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








