
ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সঙ্কট ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তি বেড়েছে। পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের পাশাপাশি তাদের স্বজনদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
পাঁচ দফা দাবিতে বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু করেন হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। পরে দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে তারা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেন।
বুধবার দুপুরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের চারু মামার ক্যান্টিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সভাপতি ডা: এস এম তপু ও সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি ও তাদের দাবিগুলো তুলে ধরেন।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগ, হাসপাতালের ভর্তি ওয়ার্ডগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সঙ্কট রয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। রোগীর স্বজনদের হাতে হামলা, দুর্ব্যবহার ও প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার অভিযোগও করেছেন তারা।
এছাড়া নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনের সময় রোগীর স্বজনদের সিভিল পোশাকে কক্ষে প্রবেশের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন।
তাদের ভাষ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সঙ্কটের কারণে রোগীদের তাৎক্ষণিক সেবা দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। এতে রোগীর স্বজনদের সাথে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয় এবং চিকিৎসকদের নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ে।
অন্যদিকে, অবকাঠামোগত সমস্যায় হাসপাতালের অবজারভেশন রুম ও ক্যাজুয়ালটি বিভাগ বন্ধ থাকায় ভর্তি ও জরুরি ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে। সীমিত জনবল ও অপ্রতুল সরঞ্জাম নিয়ে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— ভর্তি ওয়ার্ডগুলোতে পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ, কর্মস্থলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রোগীর সাথে দু’জনের বেশি স্বজনকে ওয়ার্ডে প্রবেশ করতে না দেয়া, ভর্তি দিবস ও পরবর্তী দিনগুলোতে ওয়ার্ডগুলোতে আনসার সদস্যদের সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং অবিলম্বে বন্ধ থাকা অবজারভেশন রুম ও ক্যাজুয়ালটি বিভাগ চালু করা।
সংবাদ সম্মেলনে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানান, এসব সমস্যা সমাধানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অনুরোধ জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে তারা প্রথমে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা: শেখ শামীম আহমেদ বলেন, ‘ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে তিনটি মেনে নেয়া হয়েছে। বাকি দু’টি দাবি বিবেচনা করা হচ্ছে। সিদ্ধান্তগুলো আগামী ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে।’
এরপরও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ায় তিনি একে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করেন। তার ভাষ্য, ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হয়তো ভুল বুঝছেন।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনুপস্থিতিতে চিকিৎসাসেবা সচল রাখতে অন্য চিকিৎসকদের রোস্টার অনুযায়ী দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে জানান ডা: শেখ শামীম আহমেদ।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অন্য কারো দ্বারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন কি-না, কিংবা এর পেছনে কারো দুরভিসন্ধি রয়েছে কি-না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘শনিবারের মধ্যে বিষয়টির সুরাহা না হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থানে যাবে।’
কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে বুধবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত কর্মবিরতির কারণে কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে কি-না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








