
প্রায় ১৭ বছর আগে একে একে দুই ছেলেই মারা যান হানেছ আলী (৮৯) ও সুফিয়া আক্তার (৭৯) দম্পতির। এরপর মারা যান বড় ছেলের স্ত্রী। ভিক্ষা করে সংসার চালানোর পাশাপাশি শিশু নাতিকে লালনপালন করেছেন তারা। সেই নাতি এখন রাজমিস্ত্রীর সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। তার সামান্য আয়ে তিনজনের সংসার চলে না। রোগেশোকে ন্যুব্জ অশীতিপর দম্পতির এখন দিন কাটে তিন বেলা খাবারের দুশ্চিন্তায়।
ঢাকার ধামরাইয়ের বালিয়া ইউনিয়নের দুনিগ্রামে তাদের বসবাস। বাড়ি বলতে ভাঙাচোরা একটি ঘর। ওপরে টিনের চাল, বাঁশ ও পাটখড়ির ভাঙাচোরা বেড়া। নেই বিদ্যুৎ, নলকূপ ও শৌচাগারের ব্যবস্থা। যেতে হয় পাশের বাড়ির টয়লেটে। রাত হলে বৃদ্ধ দম্পতির পক্ষে সেটিও সম্ভব হয় না।
স্থানীয়রা জানান, হানেছ আলীর বড় ছেলে জুলমত আলী বালু তোলার নৌকায় কাজ করতেন। একদিন তিনি নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলনে নেমে আর উঠে আসেননি। এর কিছুদিন পর জুলমতের স্ত্রী আরেফা আক্তার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তিনি রেখে যান আশিকুর রহমান নামে চার বছরের এক শিশু সন্তান। এরপর শ্বাসকষ্টজনিত রোগে মারা যান হানেছ আলীর ছোট ছেলে সোহরাব আলী।
একমাত্র মেয়ে জুলেখা বেগমের বিয়ে হয়েছে এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর সাথে। পোশাক কারখানায় কাজ করে চারজনের সংসার চালান জুলেখা। সীমিত আয় থেকে মা-বাবাকে সাহায্য করা তার পক্ষে সম্ভব হয় না।
বৃদ্ধ দম্পতি নাতি আশিকুর রহমানকে এইচএসসি পাস করিয়েছেন। অর্থের অভাবে থেমে গেছে তার লেখাপড়া। এখন তিনি যখন যে কাজ পান, সেটাই করেন। কখনো রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করেন। তার সামান্য আয়ে সংসার চলে না। এ অবস্থায় গ্রামবাসীর সহানুভূতি ও আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয় পরিবারটিকে।
জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে তাদের দিন কাটছে অভাব আর অনিশ্চয়তার মধ্যে। এ বৃদ্ধ বয়সে তাদের চাওয়া বেশি কিছু নয়—একটু নিরাপদ আশ্রয়, দুবেলা খাবার আর মানুষের সামান্য সহানুভূতি।
হানেছ আলী বলেন, ‘নাতির একটা চাকরি ও একটি ঘর পেলে শেষ জীবনে একটু শান্তিতে কাটাতে পারতাম।’
তাই কোনো বিত্তশালী ও সরকারি প্রশাসন থেকে এগিয়ে এলে বা কোনো সাহায্য হিসেবে অনুদান পেলে পরিবারটি দুঃখ লাগব হবে বলে জানায় ওই এলাকার স্থানীয়রা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








