
রাজবাড়ী শহরের সজ্জনকান্দায় পিয়ারুল সরদার (৩২) হত্যা মামলায় মো: শামীম আহসান (৩৬) নামে এক ছাত্রদল নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সদর উপজেলার শহীদওহাবপুর ইউনিয়নের আহ্লাদীপুরের নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে ফরিদপুর থেকে শামীমকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি রাজবাড়ী জেলা ছাত্রদলের সদস্য ও সদর উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, পিয়ারুল হত্যা মামলায় গ্রেফতারের পর শামীমকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাব্বির হোসেন। এ সময় তার নিয়ন্ত্রণে গুলি থাকার তথ্য পাওয়া যায়। পরে তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, মুরগির খামারের উত্তর পাশে বালুর নিচে সাদা পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ১১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় অস্ত্র আইনের ১৯(ফ) ধারায় মামলা করার জন্য রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে এজাহার দাখিল করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ জানান, শামীমের বিরুদ্ধে পুলিশের অপরাধী তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (সিডিএমএস) পর্যালোচনা করে দুটি হত্যা মামলাসহ চারটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
এর আগে, গত ১৮ অক্টোবর এ হত্যা মামলায় সুমন মণ্ডল নামে আরেকজনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ওই জবানবন্দি থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটের দিকে রাজবাড়ী শহরের সজ্জনকান্দা পূর্বপাড়া জামে মসজিদে এশার নামাজ শেষে উত্তর পাশের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন পিয়ারুল সরদার ওরফে পিয়ারুল ইসলাম। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন সেখানে এসে তাকে লক্ষ করে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এর একটি গুলি তার বুকের বাঁ পাশে লাগে।
গুলিবিদ্ধ পিয়ারুলকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় গত ১৮ অক্টোবর বিকেলে পিয়ারুলের স্ত্রী ফারজানা হক অজ্ঞাতপরিচয় চারজনকে আসামি করে রাজবাড়ী সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত পিয়ারুলের বিরুদ্ধে হত্যা ও অন্যান্য অভিযোগে মোট ১৩টি মামলা ছিল।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








