ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁও-১ ভুল্লি উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নে দেলাওয়ার হোসেন। নয়া দিগন্ত

আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ঠাকুরগাঁও-১ (সদর-ভুল্লি-রুহিয়া) আসনের উপনির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্য মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেছেন, ‘দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী হলে এলাকায় কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাস্তান, লুটেরা ও দখলদারের জায়গা হবে না। আপনারা একটি সুন্দর ও নিরাপদ ঠাকুরগাঁওয়ে বসবাস করবেন।’

Advertisement

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে ভুল্লি উপজেলার বড়গাঁও ইউনিয়নের লক্ষীরহাট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার নির্বাচনী সভা-সমাবেশে ভোটার, কর্মী ও সমর্থকদের আসতে রাস্তার মোড়ে মোড়ে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। অনেকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের নানা রকম হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। আমি সম্মানিত ভোটারদের অনুরোধ করব, আপনারা কোনো প্রকার হুমকি-ধমকিকে ভয় পাবেন না। আগামী ২৯ তারিখে নির্ভয়ে সকলে মিলে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবেন। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে আগামী দিনে আপনারা ভালো থাকবেন।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘আমি এমপি নির্বাচিত হলে জনগণের জন্য রাষ্ট্রের বরাদ্দকে আমানত মনে করে তা জনগণের নিকট পৌঁছে দেবো। কোনো কোনো খাতে কী পরিমাণ বরাদ্দ হবে তা সাথে সাথে জনগণকে জানানো হবে। সেই সাথে বরাদ্দের কাজ শেষ হলে কোথায় কত খরচ হয়েছে সেটিও বিস্তারিত হিসাব তুলে ধরব। আমি সব সময় জনগণের জবাবদিহিতার কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তাদের নিকট সকল কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি করব। আপনাদের প্রতি অনুরোধ করব, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে আপনারা আপনাদের ন্যায্য অধিকার বুঝে নেবেন।’

বিএনপি গত সাত মাসে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে দাবি করে দেলোয়ার হোসেন বলেন, "নির্বাচনের আগে জনগণের নিকট যে সকল প্রতিশ্রুতি তারা দিয়েছিল, তার কোনোটি এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করেনি। জনগণের দাবি অগ্রাহ্য করে তারা জনগণের সাথে উপহাস করছে। আমরা আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে সময় বেঁধে দিয়েছি। এর মধ্যে যদি সরকার জনগণের দাবি বাস্তবায়ন না করে, তাহলে ডিসেম্বরের পর বিএনপির ভাগ্য জনগণই নির্ধারণ করবে।"

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মনজুরুল ইসলাম। 

তিনি বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে আগামী দিনে তাদের এলাকার নেতৃত্ব কে দেবেন—দেলাওয়ার হোসেন ভাইয়ের মতো একজন সৎ ও সাহসী সমাজসেবক, নাকি ক্ষমতালোভী, সন্ত্রাসী, লুটেরা ও দুর্নীতিবাজ কোনো ব্যক্তি। আপনারা যদি নাগরিক হিসেবে আপনাদের অধিকার পুরোপুরি পেতে চান, তাহলে অবশ্যই আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে দেলাওয়ার ভাইকে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠাবেন।’

বড়গাঁও ইউনিয়ন জামায়াতের উপদেষ্টা আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে ও ইউনিয়ন সেক্রেটারি হাতিম তাঈয়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সভায় আরো বক্তব্য রাখেন পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা শফিউল্লাহ সুফি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ঠাকুরগাঁও জেলার নেতা রফিকুল ইসলামসহ অনেকে। এ সময় ১১ দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

একই দিন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বিভিন্ন এলাকায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মোবারক হোসেনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।