
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বরিশাল অঞ্চল টিম সদস্য ফখরুদ্দিন খান রাজি বলেছেন, ‘জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন না করলে সরকারকে প্রতিটা অক্ষরে অক্ষরে বিপদে পড়তে হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য দেশের ৭০% মানুষ গণভোটে রায় দিয়েছিল। সে রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণকে ধোঁকা দিয়ে প্রতারণা করছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জুলাই সনদ কার্যকর করতে হবে। সংবিধান সংশোধনের নামে সনদের মূল উদ্দেশ্য পাশ কাটানোর সুযোগ নেই।’
ঝালকাঠি জেলা জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে জেলা আমির নির্বাচন উপলক্ষে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিনব্যাপী এ রুকন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট বি এম আমিনুল ইসলাম ও সেক্রেটারি অধ্যক্ষ ফরিদুল হক। এ সময় জেলার চার উপজেলার রুকনগণ উপস্থিত ছিলেন।
ফখরুদ্দিন খান রাজি বলেন, ‘জুলাই সনদ বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলিল। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল দল-মত, শ্রেণি ও পেশার বিভেদ অতিক্রম করে জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ। ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী ব্যবস্থার অবসান এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যে আকাঙ্ক্ষা বিপ্লবের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে, জুলাই সনদ তার রাজনৈতিক প্রতিফলন। জনগণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে উত্থাপিত রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি বাস্তবায়ন করাই এখন সময়ের প্রত্যাশা।’
তিনি আরো বলেন, ‘রাষ্ট্র সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলোতে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। সনদে স্বাক্ষরের সময় সংযুক্ত ব্যাখ্যা ও ফুটনোটের মাধ্যমে এর বাস্তবায়ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারের ওপর নির্ভরশীল করায় সনদের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ ধরনের শর্ত রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে জনগণের অভিপ্রায়কে দুর্বল করতে পারে।’
জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক নির্বাচনে সরকার গঠনের জন্য সংসদ নির্বাচন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, অন্যদিকে গণভোটে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পড়েছে। সংসদ সদস্যরা শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেয়ার মধ্য দিয়ে সরকার গঠন ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে ভিন্ন অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে।’
উল্লেখ্য, গোপন ভোটের মাধ্যমে জেলা আমির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ২০২৭-২০২৮ সেশনের জন্য এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের ফলাফল কেন্দ্র থেকে একযোগে সারা দেশের সাথে ঝালকাঠি জেলা আমির নির্বাচনের তথ্যও জানানো হবে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








