
বরিশাল জেলার মুলাদীতে আট মামলার আসামি জামাল পালোয়ানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মুলাদি থানার পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মুলাদী থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সহকারী পুলিশ সুপার তারেক আমান বান্না গণমাধ্যমকে তার গ্রেফতারের বিষয়টি অবহিত করেন।
এর আগে, সোমবার (১৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার জামাল পালোয়ান উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মরহুম কাশেম পালোয়ানের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামাল পালোয়ান জেলেদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, মাছ ও জাল ছিনিয়ে নেয়। এ নিয়ে জেলেদের সাথে ও জামাল পালোয়ানের বাগবিতণ্ডা হয়। বাগবিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে ১৮ অক্টোবর রোববার রাত ৮টায় উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের নোমরহাট খেয়াঘাট জয়ন্তী নদীতে জেলেদের ওপর হামলা চালায় জামাল পালোয়ান ও তার সহযোগীরা। এ সময় ৩২ থেকে ৩৫টি হাতবোমা বিস্ফোরণে ট্রলারচালক ও জেলেসহ অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় জেলেরা বলেন, জামাল পালোয়ান নোমরহাটের পশ্চিম পাশে একটি আড়ত ঘর তৈরি করে মাছের ব্যবসা করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে জেলেদের নির্যাতন, চাঁদা আদায়, মাছ ও জাল ছিনিয়ে নেয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
জেলেরা জানান, এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার তারা জামাল পালোয়ানকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয় বিএনপি নেতার সুপারিশে পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
স্থানীয় জেলে সরওয়ার সরদার জানান, ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে রোববার রাত ৮টার দিকে জামাল পালোয়ান ও তার সহযোগী স্বপন পালোয়ানসহ আট থেকে ১০ জনের একটি দল অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জয়ন্তী নদীতে জেলেদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তারা ৩২ থেকে ৩৫টি হাতবোমা নিক্ষেপ করেন। এ সময় বিকট শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বোমা বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন রক্তাক্ত আহত ও দগ্ধ হন। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। আহতদের মধ্যে ট্রলারচালক আজিজুল খানের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এবং জেলে জহিরুল ইসলামকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আহত জেলে জাকির হোসেন বলেন, ঘটনার পর থেকে নোমরহাট ও জয়ন্তী নদীসংলগ্ন এলাকায় সাধারণ জেলেদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় মুলাদী থানায় অভিযুক্ত জামাল পালোয়ানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। পরে এ ঘটনার বিষয়ে মুলাদী থানা পুলিশ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করে। পরে, বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি ও বরিশাল জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অভিযান চালায় মুলাদী থানা পুলিশ। অভিযানে মুলাদী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার তারেক আহম্মেদ বান্নার নেতৃত্বে মুলাদী থানা পুলিশের বিশেষ দল মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে লক্ষ্মীপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে জামাল বেপারীকে
গ্রেফতার করে।
গ্রেফতার জামাল পালোয়নের স্ত্রী আসমা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী এ ঘটনায় জড়িত নন। তিনি রাতে বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। পুলিশ সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে এসেছে।’
সহকারী পুলিশ সুপার তারেক আমান বান্না বলেন, ‘গ্রেফতার জামাল বেপারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে জলদস্যুতা, মাদকসংক্রান্ত অপরাধসহ অন্তত আটটি মামলা চলমান রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।’
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








