জামায়াত, জুলাই শহীদ
অর্থসহায়তা হস্তান্তর। নয়া দিগন্ত

খাগড়াছড়ি  জেলার একমাত্র জুলাই শহীদ মজিদের পরিবারের ঘর নির্মাণের জন্য দুই লাখ টাকা সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। 

Advertisement

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে দলটির আমির ডা: শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে জেলার রামগড় উপজেলাধীন পাতাছড়া ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে শহীদ মজিদের পরিবারের কাছে এ সহায়তা হস্তান্তর করেন জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। জামায়াতের কেন্দ্রীয়  মজলিসে শূরার সদস্য জাফর সাদেক, জেলা আমির অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল মোমেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ শহীদ পরিবারের হাতে এ নগদ অর্থ তুলে দেন।

এ সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য জাফর সাদেক সাংবাদিকদের জানান, জুলাই বিপ্লবে যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন কিংবা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের পরিবারের দায়িত্ব সরকারকে গ্রহণ করতে হবে। শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন এবং আহতদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

তিনি আরো বলেন, জুলাই বিপ্লবের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়েই বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তাই সরকারের উচিত জুলাই বিপ্লবে আত্মত্যাগকারীদের যথাযথ মূল্যায়ন এবং তাদের পরিবারের সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করা। পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়নও জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের দাবিও জানান তিনি।

জেলা জামাতের সেক্রেটারি মো: মিনহাজ স্থানীয় সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুইয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, সংসদ সদস্যের উচিত দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে জেলার সকল মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। জামায়াতের সমর্থক ও কর্মীরা যেখানে ভোট দিয়েছেন, সেখানে রাস্তাঘাট ও বিদ্যুতের মতো মৌলিক উন্নয়ন সুবিধা দেয়া হবে না—এমন বক্তব্য বা আচরণ গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, খাগড়াছড়ি জেলার উন্নয়নে জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও বিভিন্ন সরকারি দফতরের মাধ্যমে যেসব প্রকল্প নেয়া হচ্ছে, সেগুলোর শতভাগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো ধরনের দুর্নীতি, চাঁদাবাজি কিংবা অবৈধভাবে অর্থ আদায় যেন না হয়, তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি।

পরে নেতৃবৃন্দ শহীদ মজিদের কবর জিয়ারত করেন এবং তার রূহের মাগফিরাত কামনা করেন।

এসময় জেলা জামায়াতের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। 

উল্লেখ্য, শহীদ মো: মজিদ হোসেন (১৬) জুলাই গণঅভ্যুত্থানে খাগড়াছড়ি জেলার একমাত্র শহীদ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ রেললাইনের পাশে ১৯ জুলাই আগুনে তার শরীরের ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ভর্তি করায় হাজীগঞ্জ হাসপাতালে। ২০ জুলাই  উন্নত চিকৎসার জন্য তাকে পাঠানো হয় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। গুরুতর আহত মজিদ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ জুলাই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ২৬ জুলাই খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলাধীন পাতাছড়া ইউনিয়নে শহীদের নিজ গ্রাম রসুলপুর কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।