মানববন্ধন
দোয়ারাবাজারে সাংবাদিককে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা: অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন। নয়া দিগন্ত

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে মাদক ও সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক এম আব্দুল মোতালিব ভূইয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত মাদককারবারি আব্দুল আহাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিভিন্ন পত্রিকা ও টেলিভিশনে কর্মরত সাংবাদিকরা।

Advertisement

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের সামনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সংগঠন উপজেলা প্রেসক্লাবের আয়োজনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা বলেন, উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া গ্রামের ইউসুফ ভূইয়ার ছেলে সীমান্তের মাদক সম্রাট ও অস্ত্র ব্যবসায়ী আব্দুল আহাদ ভূইয়া দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্তে মাদক পাচার, চোরাচালান এবং অস্ত্র ব্যবসা এবং মানবপাচারসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় আব্দুল আহাদের নেতৃত্বে মাদক ছাড়াও বিদেশী অস্ত্র বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছে। তার প্রভাবে স্থানীয়রা ভয়ে কিছু বলতে পারে না। 

তারা আরো বলেন, দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি ও দৈনিক সংবাদ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি এম আব্দুল মোতালিব ভূইয়া পেশাগত দায়বদ্ধতার কারণে মাদক ও চোরাচালানসহ সীমান্ত এলাকার সকল অবৈধ কাজের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করে আসছেন। মাদক ও চোরাচালানবিরোধী সংবাদ প্রকাশের জেরে আব্দুল আহাদ দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক আব্দুল মোতালিব ভূইয়াকে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য হুমকি দিয়ে আসছিলো। চলার পথে একাধিকবার তাকে পথরোধ করেও হামলার চেষ্টা করেছে এই মাদককারবারি। এরই জেরে গত (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া গ্রামে মোতালিব ভূইয়ার অফিস কক্ষে ঢুকে দলবল নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যার উদ্দেশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে গণপিটুনি দিয়ে ঘটনাস্থলে রশি দিয়ে বেঁধে রাখে। এ সময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় মোতালিব ভূইয়াকে পুলিশ উদ্ধার করে প্রথমে দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করালে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

এছাড়াও মাদক সম্রাট হিসেবে পরিচিত আব্দুল আহাদ ভূইয়ার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, অস্ত্র পাচারসহ একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে। এসব অপরাধের কারণে একাধিকবার জেলহাজতে গেলেও জামিনে বের হয়ে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পুনরায় তার এসব কাজ পরিচালনা করে।

বক্তারা আরো বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালনের দায়ে মাদকবিরোধী সংবাদ প্রকাশের জেরে একজন সাংবাদিকের ওপর এ ধরনের হামলা নিন্দনীয় ও ন্যাক্কারজনক। এটা সাংবাদিক সমাজকে আতঙ্কিত করে। সাংবাদিকেরা দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করে থাকেন। কিন্তু বিভিন্ন সময় তাদের নানাভাবে হয়রানি-নির্যাতন, এমনকি হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়, যা পেশাদার সাংবাদিকদের জন্য হুমকিস্বরূপ। মোতালিব ভূইয়ার ওপর হামলাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতসহ জড়িত সকল আসামিকে গ্রেফতার করা না হলে কঠোর আন্দোলন করা হবে।’

দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন মুন্সির সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন—সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি মাসুম হেলাল, ছাতক উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহ আক্তারুজ্জামান, দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি হাবিবুল্লাহ হেলালী, এম এ করিম লিলু, দোয়ারাবাজার উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক এরশাদুর রহমান মেম্বার, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহাবুদ্দীন সিহাব, দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক সোহেল মিয়া, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সানুর ওয়াদুদ সাগর, দোয়ারাবাজার প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মুফতি আবু তাহের মিসবাহ।

এ সময় দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি বজলুর রহমান, সহ-সভাপতি আলা উদ্দিন, দোয়ারাবাজার প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি এনামুল কবির মান্না, যুগ্ম সম্পাদক শাহ মাসুক নাইম, হারুন অর রশীদ, দফতর সম্পাদক আক্তার হোসেন সুমন, সদস্য মো: আবু বক্কর, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক ফারুক মিয়া, ক্রীড়া সম্পাদক মাসুদ রানা সোহাগ, সদস্য মারুফ খন্দকার, রফিকুল ইসলাম; দোয়ারাবাজার প্রেসক্লাবের প্রচার সম্পাদক নুর মুহাম্মদ, দফতর সম্পাদক শুকুর আলীসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক নেতারা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, সাংবাদিক আব্দুল মোতালিব ভূইয়ার ওপর মাদককারবারি আব্দুল আহাদ কর্তৃক হামলার পর স্থানীয়রা তাকে গণপিটুনি দিয়ে ঘটনাস্থলে রশি দিয়ে বেঁধে রাখে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পুলিশি দায়িত্বে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আব্দুর আহাদের বিরুদ্ধে আরো একাধিক অবৈধ কাজের অভিযোগ রয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।