
রংপুরের কাউনিয়ায় সেভেন স্টার গ্যাং ও কোহিনুর গ্যাংয়ের আধিপত্য বিস্তারের জেরে খুন হয়েছেন ফখরুল আলম রতন (৫০) নামে সেভেন স্টার গ্যাংয়ের একজন। অভিযোগের তীর ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কাউনিয়ার বালাপাড়া ইউনিয়নের হরিচরণ লস্কর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এসময় কোহিনুর গ্যাংয়ের মজনুর স্থানীয় নেতৃত্বে লুৎফর ও রিপন রতনকে এলোপাতারি কুপিয়ে চলে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কাউনিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খুনের শিকার রতন স্থানীয় সেভেন স্টার গ্যাংয়ের প্রধান নয়নের ভাই।
কাউনিয়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ জানান, মজনু কাউনিয়ার কুর্শা ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এছাড়াও রিপন ও লুৎফর বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত।
কাউনিয়া থানার ওসি বাদল কুমার মন্ডল জানান, ‘প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার জেরে রতনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’
বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার দেলোয়ার হোসেন জানান, দীর্ঘদিন থেকে ওই এলাকায় আওয়ামী লীগের সেভেন স্টার গ্যাং ও বিএনপির কোহিনুর গ্যাংয়ের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। আওয়ামী লীগ আমলে সেভেন স্টার গ্যাং কোহিনুর গ্যাংকে নানাভাবে হয়রানির মাধ্যমে এলাকাছাড়া করে। ৫ আগস্টের পর এলাকায় মাইকিং করে কোহিনুর গ্যাং সেভেন স্টার গ্যাংয়ের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে পুড়িয়ে দেয়। তখন থেকেই সেভেন স্টার গ্রুপের প্রধান নয়ন ও তার দুই ভাই মিলন এবং রতন এলাকা থেকে পালিয়ে যান। কয়েকদিন আগে রতন এলাকায় আসেন এবং শারদ শুভেচ্ছার পোস্টার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে সাটান। এরইমধ্যে রতন তার নিজ বাড়ির সামনে খুনের শিকার হলেন।
এনিয়ে ওই এলাকায় তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে দুর্বৃত্তদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
খুনের শিকার রতনের চাচাতো বোন জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়ির সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। রতন রংপুর থেকে মোটরসাইকেলযোগে এসে বাড়ির সামনের দোকানের সামনে নামে। এ সময় মজনু, লুৎফ ও রিপন মোটরসাইকেলযোগে সেখানে আসেন। এবং রতনের এক হাত ও এক পা ধরে ছোড়া দিয়ে কোপাতে থাকে। এক হাত ও এক পা কেটে দেয়। পরে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে আবার ১০-১৫ জন এসে মহড়া দিয়ে গেছে। সবগুলোকে তিনি চিনেন।
ওই নারী আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার পালানোর পর পরই আমাদের বাড়িঘর সবারই ২২টা বাড়ি পুড়িয়ে ওরা পুড়িয়ে দিয়েছে। সব জিনিসপত্র , ছাগল-গরু যা আছিল সম্পূর্ণ জিনিস ওরা নিয়ে গেছে। তখন আমার ভাইয়েরাও পালাইছে, আমার ছেলেও পালাইছে, সবাই পলাতক। দুই বছরের বেশি সময় ওরা পলাতক। সাইটে সাইটে আছে, বাড়ি আসে না।’
রতনের মা বলেন, ‘আমি তো কিছু বলতে পারি না। আমার ছেলে রংপুর থেকে আমাকে দেখার জন্য এসেছিল। কে কে মারছে, আমি ওদের নামও জানি না। বাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার পর থেকেই আমার ছেলে পলাতক আছে। আমার মেয়ের আর জামাইর বাড়িতে একটা মাদরাসায় থাকে। ওর একটা মেয়ে আছে, একটা বাচ্চা আছে। আমার নাতি-নাতনিদের কী হবে আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।’
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








