সাভারের নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্রী ৯ দিন পর মিরপুরে উদ্ধার
উদ্ধারের পর বাবার জিম্মায় ভুক্তভোগী মাদরাসা ছাত্রী। নয়া দিগন্ত

ঢাকার সাভার থেকে নিখোঁজ মাদরাসা ছাত্রীকে নয় দিন পর রাজধানীর মিরপুরের কালসি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

Advertisement

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুরের কালসির সিরামিকস এলাকার একটি বাসা থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। 

পুলিশ জানায়, সাভারের হেমায়েতপুরের যাদুরচর এলাকার আয়েশা সিদ্দিকা রা:-বালিকা মাদরাসার পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রী তার মায়ের দুর্ব্যবহার ও মারধরের কারণে বাসায় না গিয়ে স্বেচ্ছায় মাদরাসার হোস্টেল থেকে বের হয়ে যাওয়ার নয় দিন পর উদ্ধার হয়েছে। পরে বিকেলে ওই ছাত্রীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। 

মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে মাদরাসা ছুটি হলে ওই আবাসিক ছাত্রী বোরকা পূর্বাবস্থায় সিকিউরিটি গার্ডকে না জানিয়ে মাদরাসার অনাবাসিক ছাত্রীদের সাথে বের যায়। পরে সে বাসায় না গিয়ে প্রথমে সাভারের নবীনগরে যায়। সেখান থেকে বাসে রাজধানীর মিরপুরের কালসির সিরামিকস এলাকায় গিয়ে ঘুরাঘুরি করতে দেখে ওই ছাত্রীকে এক রিকশাচালক স্থানীয় এক নারীর তত্ত্বাবধানে দেয়। পরে তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পাওয়া নারী ওই ছাত্রীর খাতা থেকে মাদরাসার এক অভিভাবকের ফোন নম্বর পেয়ে ওই অভিভাবককে ব্যাপারটি জানলে ছাত্রীর পরিচয় নিশ্চিত হয়। 

পরে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার এসআই সবুজকে ব্যাপারটি অবহিত করলে সোমবার দুপুরে তদন্তকারী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে মিরপুরের কালসির সিরামিকস এলাকার বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করে। বিকেলে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করেন। 

এর আগে, ১১ অক্টোবর ওই ছাত্রী মাদরাসা থেকে বের হয়ে বাসায় না গেলে ওই দিনই পরিবারের পক্ষ থেকে সাভার মডেল থানায় নিখোঁজের বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়রি করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন স্থানে খোঁজা-খুজি করলে কোথাও পাওয়া যায় না গেলে ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুরে ছাত্রীর বাবা নুরুল ইসলাম স্থানীয় প্রায় ৪০-৫০ জন লোক নিয়ে মাদরাসায় গিয়ে ছাত্রী হোস্টেলে প্রবেশ করতে চাইলে মাদরাসার সিকিউরিটি গার্ড ও ছাত্ররা বাঁধা দেয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ও সংঘর্ষ হয়। এসময় মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ ছয়জন আহত
হয়।

মাদরাসার শিক্ষক মুফতি আব্দুল্লাহ ফিরোজি জানান, ‘বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মেয়েটির বাবা স্থানীয় লোকজনের ইন্ধনে মাদরাসায় হামলা করার কথা স্বীকার করেছেন।’ 

উদ্ধার হওয়া ছাত্রীর বাবা জানান, ‘তার মেয়ে উদ্ধার হওয়ায় তিনি খুবই খুশি। বৃহস্পতিবার মাদরাসায় ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনা জন্য তিনি অনুতপ্ত। আগামীকাল (মঙ্গলবার) মাদরাসার শিক্ষকদের সাথে তিনি দেখা করতে যাবেন।’

জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সাভার মডেল থানার (এসআই) সবুজ জানান, ‘মাদরাসার ওই ছাত্রীর সাথে তার মা খুবই খারাপ ব্যবহার করতেন। মাঝে মাঝে মারধরও করতেন। এসব বিষয় সহ্য করতে না পারায় সে মাদরাসার হোস্টেল থেকে স্বেচ্ছায় বের হয়ে যায়। মায়ের নির্যাতনের বিষয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রী তার বাবাকে একাধিক বার জানালেও তিনি কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় সে মাদরাসা থেকে বের হয়ে যায়।’