প্রধানমন্ত্রী
রংপুর শহর। নয়া দিগন্ত

রংপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতনীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

Advertisement

আগামীকাল (২০ অক্টোবর) মঙ্গলবার তিনি এই সফর করবেন। তার আগমনকে ঘিরে এবার রংপুরের পূজা অর্চনায় বইছে বাড়তি উৎসবের ঢেউ। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের আশা প্রধানমন্ত্রীর সফরে উন্নয়নের মূল সড়কে যাত্রা শুরু হবে রংপুর বিভাগের। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ এই অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের ব্লুপ্রিন্ট ঘোষনার আশাও করছেন বিভাগবাসী।    

রংপুরের ডিসি ইসরাত জাহান জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০ অক্টেবার সকাল সকাল ৯টায় তেজগাঁও বিমানমন্দর থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। সেখান থেকে সকাল ১০টায় রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। ১১টায় ধর্মসভা-রাধাগোবিন্দ মন্দিরে পৌঁছাবেন। সেখানে মণ্ড পরিদর্শন ছাড়াও মতবিনিময় করবেন। 

রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রশিদ জানান, ‘নিরাপত্তার বিষয়ে একজন ভিভিআইপির নিরাপত্তার যে প্রটোকল মানা হয় এবং রেডবুক অনুসারে যে সমস্ত সিকিউরিটি এরেঞ্জমেন্ট প্রয়োজন আমরা সবগুলোরই ব্যবস্থা নিয়েছি। সবার সাথে সমন্বয় করে আমরা এই সিকিউরিটি এরেঞ্জমেন্টগুলো করছি। আমরা নিরাপত্তার দিক থেকে কোনো রকম সমস্যার কোনো সুযোগ এখানে নেই। আমরা যেমন গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করছি, আমরা সেই মোতাবেক যেখানে যেটা প্রয়োজন সে ব্যবস্থাগুলো আমরা গ্রহণ করছি।’

ধর্মসভা রাধামন্দিরের সাধারণ সম্পাদক খোকন সরকার জানান, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আসার পরে জাহাজ কোম্পানির মোড় থেকে আমাদের রাস্তার দুই পাশে ঢোল থাকবে। ছেলেমেয়ে ও  মায়েরা উলুধ্বনি দিবে, শঙ্খ ধ্বনি দিবে। ওখান থেকে আমরা বরণ করে নিয়ে এসে ধর্মসভার গেটে লাল গালিচার মাধ্যমে তাকে রিসিভ করে ভেতরে নিয়ে আসব। ভিতরে নিয়ে আসার পরে তিনি দুর্গা উৎসব উপলক্ষে আমাদের দুর্গা মাকে দর্শন করবেন। দর্শন করার পরে আমরা উপরে নিয়ে যাব আমাদের রাধা গোবিন্দ মন্দিরে। সেখানে  রাধা গোবিন্দর বিগ্রহ পরিদর্শণ করানোর পরে  প্রধানমন্ত্রীকে সেখানে বসাবো এখানে। ওয়েলকাম নৃত্যের মাধ্যমে আমরা তাকে সম্ভাষণ জানাবো  আমাদের কিছু ধর্মীয় কৃষ্টি কালচার দিয়ে।’ 

রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দু’টি উৎসব এবার হচ্ছে রংপুরে। একটি হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব আরেকটি তারেক রহমান আসা উৎসব। স্বাধীনতার পরে প্রধানমন্ত্রী রংপুরকে বেছে নিয়েছেন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন। এটার মাধ্যমে আমরা সিগনাল পাই রংপুর আর উন্নয়ন বৈষম্য থাকবে না।’

রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুর ডন বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। সারা বাংলাদেশে এতগুলো মহানগরী আছে এতগুলো জেলা আছে তার মধ্যে থেকে আমাদের রংপুরকে উনি বেছে নিয়েছেন। এটি নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য অনেক বড় একটি প্রাপ্তি এবং অনেক বড় একটি সুসংবাদ। এবং এর মাধ্যমে আমরা বিশ্বাস করি যে আগামী দিনে রংপুরের উন্নয়নের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উনি উন্নয়নের জন্য যা যা করা দরকার সবকিছুই উনি করবেন।’

রংপুর মহানগর বিএনপির আহবায়ক ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-আরপিডিএ চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী আসাতে আমাদের। এক হচ্ছে সনাতন ধর্মের ভাই বোনদের খুশি। আমরা রংপুরবাসীও খুশি।  আমরা খুশি কারণ কয়েকদিন আগে উনি রংপুরের উন্নয়নের জন্য উনি রংপুর সিটি করপোরেশনকে ১৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। যেটা দিয়ে রংপুরের উন্নয়ন সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন হবে। এছাড়াও তিনি যে রংপুরের উন্নয়ন বৈষম্য দূর করণের বার্তা দিতেই পূজায় রংপুরকে বেছে নিয়েছেন।’

রংপুর-৩৬ আসনের সংরক্ষিত মহিলা এমপি রেজেকা সুলতানা ফেন্সী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আসছেন এজন্য রংপুরবাসী আনন্দিত। কয়েকদিন আগে যেভাবে সিটি করপোরেশনে আমাদের একটা ১৮০০ কোটি টাকার বরাদ্দ দিয়েছে উন্নয়নের জন্য, তার পাশাপাশি আবার শারদীয় পূজা। রংপুর ইতোপূর্বে আমরা জানতাম যে অবহেলিত এবং বৈষম্যহীনতায় ভুগছিলেন, এখন আর সেটা আর মনে করছি না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই আগমন উপলক্ষে আমি মনে করি আমাদের আগামী দিনে যেসব আমাদের চাহিদা আছে, যেসব আমরা নির্বাচনী ইস্তেহার আছে, একটি একটি করে প্রতিটি জিনিস আমরা পালন করব ইনশাআল্লাহ।’

ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দিরের পুরোহিত উদয় চন্দ্র জানান, ‘আমরা রংপুরে যে বৈষম্যগুলো আছে প্রধানমন্ত্রী আসলে সেই যেন বৈষম্যগুলো দূর হয় আমি একজন পুরি হিসেবে এই কামনাই করছি।’

মন্দিরে কথা হয় রংপুর জেলা যুবদলের সভাপতি নাজমুল আলম নাজুর সাথে। তিনি জানান, এবার পূজার উৎসবে বাড়তি মাত্রা। কারণ একটাই যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী রংপুর আসছেন।  

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের রংপুর জেলা সভাপতি ডা: নির্মলেন্দু গুহ জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী আসছেন-এই আনন্দে আমরা আত্মহারা। কারণ একজন প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমরা শারদীয় দুর্গৎসব ভাগ করে নিব। এটা আমাদের জন্য একটা অনেক বড় পাওয়া। এটা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেই সম্ভব। অতীতে এরকম কোনো নজির আছে বলে আমার মনে হয় না।’