
পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের ঘোষণা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এ ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে কুষ্টিয়ার গঙ্গা ব্যারেজ বাস্তবায়ন কমিটি।
সংশ্লিষ্টদের আশা, পদ্মা ব্যারেজ নির্মিত হলে পানির ন্যায্য হিস্যা, নদীর পানিপ্রবাহের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাব, শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং ক্রমবর্ধমান মরুকরণের ঝুঁকি মোকাবিলায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ প্রকল্প।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের মহানগর ট্র্যাকে গঙ্গা ব্যারেজ বাস্তবায়ন কমিটি, কুষ্টিয়ার উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশ ও আলোচনা সভায় এসব প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন বক্তারা।
হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আমিরুল ইসলাম আন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন গঙ্গা ব্যারেজ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন।
আলোচনায় অংশ নেন সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক বশিরুল আলম চাঁদ, কৃষক দলের সাবেক সভাপতি গোলাম কবির, জেলা যুবদলের সভাপতি ফুহাদ রেজা ফাহিম, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব, কুষ্টিয়া শহর বিএনপির সভাপতি এ কে বিশ্বাস বাবু এবং জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাক্কির রহমান রাব্বি, রবিউল ইসলামসহ অন্য নেতারা।
গঙ্গা ব্যারেজ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, ‘গঙ্গা ব্যারেজ বাস্তবায়নের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে। এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি ও অর্থনীতির সাথে পদ্মা ও গঙ্গার পানিপ্রবাহের সম্পর্ক গভীর। প্রধানমন্ত্রীর পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের ঘোষণা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য আশাব্যঞ্জক এবং উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘উজানে পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, শুষ্ক মৌসুমে পানির স্বল্পতা এবং নদ-নদীর নাব্যতা হ্রাসের প্রভাব দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি ও পরিবেশে দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছে। পানির অভাবে সেচব্যয় বৃদ্ধি, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, জলাভূমি সংকুচিত হওয়া এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির মতো সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টনে ন্যায্যতা এবং দুই দেশের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা।’
অধ্যক্ষ সোহরাবউদ্দিন বলেন, ‘পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পাশাপাশি গঙ্গা ব্যারেজ বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা, পানির প্রাপ্যতা, পরিবেশগত প্রভাব ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। পরিকল্পিতভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারের সুযোগ তৈরি হবে।’
অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আশা প্রকাশ করেন, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের ঘোষণাকে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নেয়ার মধ্য দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের পানিসঙ্কট নিরসন এবং টেকসই উন্নয়নের প্রত্যাশা পূরণ হবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








