
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় অসময়ের তরমুজ চাষ করে চমক দেখিয়েছেন মো: এমাদুল হাওলাদার নামের এক কৃষক। ৫০ শতাংশ জমিতে প্রথমবার মাচায় তরমুজ আবাদ করেই বাজিমাত করেছেন তিনি। ধানের চেয়ে বহুগুণ লাভজনক হওয়ায় তার দেখাদেখি এলাকার অনেক কৃষক এখন মাচায় তরমুজ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
সরেজমিনে উপজেলার চেঁচরী রামপুর ইউনিয়নের মহিষকান্দি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মাঠজুড়ে মাচায় ঝুলে আছে গাঢ় সবুজ রঙের তরমুজ। স্থানীয় কৃষি অফিসের সহায়তায় প্রদর্শনী প্লট হিসেবে প্রথমবারের মতো ৫০ শতাংশ জমিতে এই চাষ শুরু করেন এমাদুল। রোপণ করা হয়েছে উচ্চ তাপমাত্রা ও বৃষ্টিসহনীয় ‘রোজাগোল্ড’ জাতের তরমুজ।
কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বীজ রোপণের মাত্র ৭০ দিনের মাথায় ফলন ঘরে তোলা যায়। অনুকূল আবহাওয়া ও উপযুক্ত পরিচর্যার কারণে ক্ষেতে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফল পাকতে শুরু করায় ইতোমধ্যে বাজারজাতকরণও শুরু হয়েছে। ক্ষেত থেকেই পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসে নির্ধারিত দামে তরমুজ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
মো: এমাদুল হাওলাদার বলেন, ‘বীজ রোপণ থেকে শুরু করে ফলন কাটা পর্যন্ত আমার মোট খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ তরমুজ ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রথম চালানেই ৫০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছি। জমিতে এখনো যে পরিমাণ তরমুজ আছে, তাতে মোট বিক্রি ১ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে।’
এমাদুল আরো জানান, প্রথাগত ধান বা অন্যান্য ফসলের তুলনায় মাচায় তরমুজ চাষ অনেক বেশি লাভজনক। আগামী মৌসুমে তিনি আরো বড় পরিসরে এই তরমুজের আবাদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে এমাদুলের এই সফলতায় স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। গ্রামের একাধিক স্থানীয় যুবক জানান, এই তরমুজ বাগানে নিয়মিত পরিচর্যা ও ফসল তোলার কাজে যুক্ত হয়ে এলাকার কয়েকজন বেকারের কর্মসংস্থান হয়েছে। তার সাফল্য দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে গ্রামের অনেক কৃষকই এখন মাচায় অসময়ের তরমুজ চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: জাহিদুল ইসলাম বশির বলেন, ‘অসময়ের ফল হওয়ায় বাজারে কৃষক যেমন বাড়তি দাম পাচ্ছেন, তেমনই স্থানীয় পুষ্টির চাহিদাও পূরণ হচ্ছে। চলতি মৌসুমে কাঁঠালিয়ায় মোট ১ হেক্টর জমিতে মাচায় এই জাতের তরমুজ চাষ হয়েছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের বীজ, সার ও কীটনাশক এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দিয়ে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফাতেমা ইসলাম বলেন, ‘মাচায় অসময়ের তরমুজ চাষের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। ফলে আগামী দিনে এই অঞ্চলে তরমুজ চাষির সংখ্যা এবং আবাদের পরিমাণ আরো অনেক বাড়বে।’
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








