
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, ‘খুলনা একটি সমৃদ্ধ নগরী। বন্দর ও শিল্প নগরী হিসেবে খুলনা দেশজুড়ে সমাদৃত ছিল। মানুষ এ শহরে এসে আর ফিরে যাননি, এখানেই স্থায়ী হয়ে থেকে গেছেন। এখন কর্মসংস্থানের সঙ্কট, মাদক ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আমাদের সম্ভাবনার দুর্বল দিক হয়ে দেখা দিয়েছে। আমরা সেই হারানো খুলনাকে ফিরিয়ে আনতে চাই।’
বুধবার (১৪ অক্টোবর) নগরীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘খুলনা নগর অঞ্চলের জন্য শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কৌশল ২০৫০’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জার্মান সরকারের আর্থিক সহায়তায় খুলনা সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ক্লাইমেট চেঞ্জ এডাপটেড আরবান ডেভেলপমেন্ট (সিসিএইউডি) প্রোগ্রাম প্রকল্পের আওতায় কনসালটেন্সি সংস্থা একোম্প্যানিং মেজর কনসালট্যান্ট (এএমসি) এ বৈঠকের আয়োজন করে।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘খুলনা অনগ্রসর থাকার একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে রাষ্ট্রীয় পলিসি নেয়ার স্থানগুলোতে এখানকার নেতৃত্ব পৌঁছাতে পারে না। সে কারণে সরকারের বিশেষ সহযেগিতার প্রয়োজন পড়ে।’ খুলনা উন্নয়নের খাতগুলো জাতীয় সংসদে উত্থাপনের জন্য তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।
গোলটেবিল বৈঠকে নিজস্ব এখতিয়ার ও সম্পদের সীমার মধ্যে থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে খুলনা নগর অঞ্চলের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ও বর্তমান বাস্তবতা উত্তরণে কেসিসির বাস্তবমুখী কর্মসূচি নেয়া, কেসিসি, কেডিএ, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, শিল্প প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের একত্রে কাজ করতে সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং আগামী দুই বছরের মধ্যে কেসিসি কী ধরণের বাস্তব উদ্যোগ শুরু করতে পারে বা নেতৃত্ব দিতে পারে, বাস্তবায়নে কী সিদ্ধান্ত, অংশীদারত্ব ও সম্পদ প্রয়োজন হবে, কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা ও কেসিসির করণীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, চীফ প্লানিং অফিসার আবির উল জব্বার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর ড. নিশাদ নাসরিন, আমাম সি ফুডস লিমিটেডের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর, সারতাজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর বদরুল আলম মার্কিন, খুলনা বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন গ্রুপের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ জাহিদ হোসেন, পাগমার্ক ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের স্বত্ত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম বাচ্চু, বাস্তুকল্প আর্কিটেকটস লিমিটেডের প্রধান এস এম নাজিমুদ্দিন পায়েল, সুন্দরবন অ্যাকাডেমির নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর আনোয়ারুল কাদির, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) খুলনার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা গোলটেবিল বৈঠকে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








