রাঙ্গামাটি, পর্যপট, ওয়াকওয়ে
আরএইচডি লেক ভিউ গার্ডেনের ওয়াকওয়ে। সংগৃহীত

পাহাড়, বন আর কাপ্তাই হ্রদের নীল জলের অনন্য মেলবন্ধন পার্বত্য শহর রাঙ্গামাটি। অপরূপ প্রাকৃতিক রূপ থাকলেও শহরে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত বিনোদন কিংবা অবসর কাটানোর সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সে চিত্রে এসেছে আমূল পরিবর্তন। 

Advertisement

রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমার দূরদর্শী পরিকল্পনা ও বিশেষ উদ্যোগে শহরের প্রাণকেন্দ্র কাঁঠালতলী-ফিশারী সংযোগ বাঁধ এলাকা পর্যটন সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্তে রূপ নিয়েছে। কাপ্তাই হ্রদ ঘেঁষা ফিশারী সংযোগ সড়কটি আজ পরিণত হয়েছে শহরের অন্যতম আকর্ষণীয় দর্শনীয় স্থান আরএইচডি লেক ভিউ গার্ডেনে।  

রাঙ্গামাটি সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাই হ্রদের চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে অক্ষুণ্ণ রেখে ও সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধা বাড়াতে লেক ভিউ গার্ডেনজুড়ে তৈরি করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে। হ্রদের শীতল বাতাস আর নীল জলের কূল ঘেঁষে তৈরি এ ওয়াকওয়েতে সকালে ও বিকেলে পথচলা এখন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এক অভূতপূর্ব অনুভূতি এনে দিচ্ছে। এছাড়া বাগানটিতে প্রায় ২০০ প্রজাতির দেশী-বিদেশী গাছের সমারোহ ঘটানো হয়েছে, যা শিক্ষার্থী ও উদ্ভিদপ্রেমীদের মাঝে প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের বিশেষ উৎসাহ তৈরি করছে।

সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, শহরের অন্য অনেক পর্যটন স্পটে প্রবেশমূল্য থাকলেও নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমার চিন্তাধারায় তৈরি এ লেক ভিউ গার্ডেনে টিকিট বা ফি ছাড়া একদম বিনামূল্যে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন সবাই। দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের সুরক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্প্রতি সেখানে পুলিশ বক্স স্থাপনসহ সিসি ক্যামেরা, সেফটি সাইন সিগন্যাল ও দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

এক সময়ের অবহেলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এ বাঁধ এলাকাটিকে একটি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর বিনোদনকেন্দ্রে রূপ দেয়ায় প্রশংসায় ভাসছেন সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা। স্থানীয় অধিবাসী ও ভ্রমণপিপাসুরা জানান, পরিবার পরিজন নিয়ে বিকেলে হ্রদের রূপ উপভোগ আর নির্ভেজাল সময় কাটানোর জন্য আরএইচডি লেক ভিউ গার্ডেন এখন শহরের সেরা স্থান। পার্বত্য রাঙ্গামাটির প্রাকৃতিক রূপকে কাজে লাগিয়ে শহরকে বদলে দেয়ার এ সওজ উদ্যোগ সারা দেশের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে সবাই।