
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় চুরির ঘটনায় মো: কবির হোসেন নামে এক প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও এসআরবির যৌথ দল।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে সুধারাম থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মোহাম্মদ আরিফ হোসেন।
নিহত কবির হোসেন সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকার মৃত আবু হানিফ ও কমলা বেগম দম্পতির বড় ছেলে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মোহাম্মদ আরিফ হোসেন জানান, সোমবার (১২ অক্টোবর) নোয়াখালীর সোনাপুর পেট্রলপাম্প-সংলগ্ন হাসিব ওয়ার্কশপ থেকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওয়ার্কশপের সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে সহায়তা চান মালিক পক্ষ।
তিনি জানান, মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকায় প্রতিবন্ধী যুবক কবিরকে আটক করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা খবর দেন। খবর পেয়ে ওয়ার্কশপের মালিক হোসেন তার লোকজন নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় তাদের কয়েকজন কবিরকে মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মারধরের ফলে তিনি গুরুতর আহত হন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, মারধরের পর গুরুতর আহত কবিরকে ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নেয়াজপুর ইউনিয়নের দেবীপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। ওই এলাকায় অভিযুক্ত হোসেনের বাড়ি। পরে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে রাতে পুলিশ দেবীপুরের একটি দোকানের কাছ থেকে কবিরের লাশ উদ্ধার করে।
নিহত কবিরের মা কমলা বেগমের অভিযোগ, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ইসলামগঞ্জ বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে মুন্সীর দোকানের সামনে কবিরকে ধরে নিয়ে যান কয়েকজন। পরে দোকানের পেছনের একটি ক্ষেতে নিয়ে তাকে মারধর করা হয়। ছেলেকে বাঁচাতে গেলে তাকেও দুই দফায় কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হয়। বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দফায় দফায় তার ছেলেকে মারধর করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আট মিনিট ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে কবিরকে খুঁটির সাথে বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিওতে তাকে টাকা চুরির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করতেও দেখা গেছে।
সুধারাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইদ্রিসুর রহমান বলেন, নিহতের শরীরে লাঠির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কারা এবং কী কারণে তাকে মারধর করেছে, তা তদন্তের আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








