
যে ভয়ের কারণে ওসমান হাদিকে ভারত হত্যা করেছে, দিল্লির প্রতিটি ঘরে ঘরে সেই ভয় ধরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। বাংলাদেশকে উত্তপ্ত করা হলে দিল্লি ছারখার হয়ে যাওয়ার কথাও বলেন তারা। অভিযোগ করা হয়, দিল্লির দাসত্বের জন্যই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেসক্রিপশনে জগন্নাথ বিশ্ববিদালয়ে পশু জবেহ করার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে প্রশাসন।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) রাত ৯টায় রোকেয়া বিশ্ববিদালয়ের প্রধান ফটকে সমাবেশ থেকে এই ঘোষণা দেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা ও আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের।
এর আগে ইনসাফ মার্চের উদ্যোগে রোকেয়া বিশ্ববিদালয় ক্যাম্পাস এবং শহীদ আবু সাঈদ চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করে ইনকিলাব মঞ্চ। পরে সমাবেশ করে তারা।
এ সময় বক্তব্য রাখেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের, সদস্য সচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা, রোকেয়া বিশ্ববিদালয় আহ্বায়ক জাহিদ হাসান বিজয়, ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় উপ-প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ জামিল হোসাইন প্রমুখ।
সদস্য সচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, ‘আজকে যখন আমরা এখানে এসে কথা বলছি, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার চাইছি। যে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আজকে আমরা কথা বলছি, আপনাদের অবগতির জন্য জানাই ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদালয়ে আজকে বিশ্ববিদালয়ের তরফ থেকে একটা নোটিশ দেয়া হয়েছে। কী নোটিশ আপনারা জানেন? বলা হয়েছে বিশ্ববিদালয়ে কোনো ধরনের পশু জবাই করা যাবে না। এটা কিসের কারণে আপনারা জানেন? কারণ একটা ডিপার্টমেন্ট, ইসলামিক স্টাডিজ ডিপার্টমেন্ট—সেখানে তারা মুক্তমঞ্চে গ্যাস না থাকার কারণে ক্যান্টিনে গরুর মাংস রান্না করেছিল। গরুর গোশত রান্না করার কারণে এটার পাশে নাকি একটা মন্দির আছে এবং সেটার সামনে থেকে নাকি ইট এনে চুলা বানানো হয়েছিল। এই ইট এনে মন্দিরের ইট বলে চালিয়ে দিল্লির যে কিছু খেতু পত্রিকা আছে, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার—এরা নিউজ করেছে যে এখানে হিন্দুদের মন্দির থেকে ইট এনে রান্না করা হয়েছে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রায়াল চালানো হয়েছে। সেই ট্রায়াল চালানোর পরে তারা আজকে বিশ্ববিদালয়ের শিক্ষার্থীদের শোকজ নোটিশ দিয়েছে।’
জুমা বলেন, ‘আজ পর্যন্ত কখনো কোথাও শুনেছেন যে বাংলাদেশের ভূমিতে গরুর গোশত রান্না করা নিষিদ্ধ? এ ধরনের কথা শুনে আমাদের কার কথা মনে পড়ে? মোদি। ভারতের আরএসএস-এর যে হিন্দুত্ববাদী গুন্ডারা আছে, ভারতে যেভাবে মুসলিমদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালানো হয়, সেই আরএসএস-এর মতাদর্শ বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চাপে সিটি কর্পোরেশন বিশ্ববিদালয়কে দিয়ে নোটিশ দিয়েছে যে ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের পশু জবাই করা যাবে না। এটার প্রতিবাদে আমরা দেখেছি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যখন এরকম একটা খোঁচা দিয়ে একটা বিশ্ববিদালয়কে চাপ প্রয়োগ করে নোটিশ দেওয়া হয়, আমাদের আসলে বুঝতে বাকি থাকে না যে এই বাংলাদেশ কার কলমের খোঁচায় চলে?’
জুমা বলেন, ‘আপনাদের যদি এতই দরদ হয়, হিন্দুত্ববাদের জন্য এতই দরদ হয়, আপনারা আবার শিলংয়ে যান। আপনারা শিলং থেকে গিয়েই আপনাদের হিন্দুত্ববাদী যে চেতনা, সেটার চর্চা করেন। যদি বাংলাদেশের কোনো ক্যাম্পাসে, কোনো অঞ্চলে আপনারা হিন্দুত্ববাদের যে আপনাদের... আপনাদের যে মেন্টালিটি, আপনাদের যে পারপাস—সেটা যদি বাংলাদেশের কোনো ক্যাম্পাসে করার চেষ্টা করেন, আমরা কিন্তু আপনাদের আবার সেই ১৭ বছর শিলংয়ে পাঠাতে বাধ্য হব।’
আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘শুধুমাত্র যে ভয়ের কারণে ওরা শহীদ ওসমান হাদিকে হত্যা করেছে, দিল্লির প্রত্যেকটা ঘরে ঘরে আমরা সেই ভয় ছড়িয়ে দিতে চাই। আমরা বলতে চাই বাংলাদেশ শান্ত থাকলেই কেবলমাত্র দিল্লি শান্ত থাকবে। যদি বাংলাদেশকে উত্তপ্ত করা হয় তাহলে দিল্লি ছারখার হয়ে যাবে।’
জাবের বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে দিল্লির সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। কিন্তু আপনারা আমাদের সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেবেন, শহীদ হাদির খুনিদের ফিরিয়ে দেবেন না—তা হতে পারে না।’
জাবের বলেন, ‘আমাদের সাথে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বলে আমাদেরকে দীর্ঘ ৫৫ বছর ধরে যে নির্যাতন করে আসছেন, এখন আমাদের সময় এসেছে সেই প্রত্যেকটা নির্যাতনের, প্রত্যেকটা গুম-খুন-হত্যার জবাব দেয়ার। ইনশাল্লাহ বাংলাদেশের জনগণ এই আবু সাঈদের জমিনে দাঁড়িয়ে বলে দিচ্ছে যে বাংলাদেশে নতুন করে সীমান্তে আর একটা হত্যা হতে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশে নতুন করে আর কাউকে গুমের পর ভারতে পেতে দেয়া হবে না। বাংলাদেশে আর নতুন করে কাউকে খুন করে সমুদ্রে ভাসিয়ে দিতে দেয়া হবে না। যারা এই কাজগুলো করবে তাদেরকে আগামী দিনে বঙ্গোপসাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হবে।’
জাবের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সে বলেছে যে ‘আমি ভারতে যাব না যদি শহীদ উসমান হাদীর খুনিদের ফিরিয়ে দেওয়া না হয়।’ আবার আমরা দেখি বাংলাদেশে বসে সেই ভারতীয় যিনি দূতাবাসের প্রধান কর্মকর্তা রয়েছেন, তিনি আবার বাংলাদেশের মানুষদের সাথে খুশগল্পে মেতে উঠছেন এবং বিভিন্ন প্রোগ্রামে যাচ্ছেন কথা বলছেন। তো একটা কথা বলি—মানে এই যে ইন্ডিয়ান অ্যাম্বাসি, এখানে গিয়ে বা তাদেরকে বাংলাদেশ থেকে যে ‘তোমরা যদি শহীদ উসমান হাদীর খুনিদের ফিরিয়ে না দাও, তোমরাও যদি খুনি হাসিনাকে এই দেশে ফিরিয়ে না দাও, আমাদের ১৪শ’ শহীদের রক্তের সাথে যদি তোমরা বেইমানি করো—তাহলে বাংলাদেশের সাথে ভারতের স্বাভাবিক যে সম্পর্কটা রাখা দরকার ওইটাই থাকবে, বাকি সকল সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে।’ এইটুকু কথা বলার সাহস আপনাদের নাই? আপনি খালেদা জিয়ার সন্তান না? আপনি জিয়াউর রহমানের সন্তান না? তারা তো এই দেশের জনগণের জন্য সবসময় আপসহীন ছিলেন। আপনি কেন নত হয়ে যান, আমরা জানতে চাই। আমরা তো জানতে চাই যে এখন পর্যন্ত শহীদ ওসমান হাদীর এই খুনিদের জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাপারে কোনো জবাব দেয়া হয় নাই, এর পরিপ্রেক্ষিতে আপনি কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন, আমরা জানতে চাই।’
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








